Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:54 pm
অন্যান্য

১০ মার্চ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু, মিলবে ১৩ উপজেলায়

১০ মার্চ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু, মিলবে ১৩ উপজেলায়

Oplus_131072

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুরুতে দুই উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধ সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে একটি কমিটি গঠন করেছে।
সুবিধাভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করা হবে। উপকারভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের আওতায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড এবং ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করা হবে। সুবিধাভোগী নির্ধারণে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে এবং দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ডাটাবেসের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।
যেসব এলাকায় শুরু হচ্ছে
পাইলট কর্মসূচির আওতায় নারীপ্রধান পরিবারের নামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে সেগুলো হলো—ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরীক্ষামূলক এ উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

Advertisement
Advertisement