Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:55 pm
অন্যান্য

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় কেন অনড় ছিল বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় কেন অনড় ছিল বিএনপি

Oplus_131072

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রশাসন থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কীভাবে তার পদে বহাল থাকলেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপতি নিজেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সেই সংকটময় সময়ে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন। তার ভাষায়, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”
কেন অপসারণের বিরোধিতা করেছিল বিএনপি
রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি উঠলেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা তখন প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল—
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে
সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে
জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে
দলটির একাধিক নেতা মনে করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংবিধান মেনেই চলছিল। এ অবস্থায় অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
একজন সিনিয়র নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের কৌশল নিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, বিএনপি শুরু থেকেই দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে নতুন সংকট তৈরি হলে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারত—এ কারণেই দলটি অপসারণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
তৎকালীন বক্তব্য
২০২৪ সালের অক্টোবরে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের পর বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হোক—এটি তারা চান না।
একই সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে এবং জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির দাবি
মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
তিনি আরও জানান, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তারা তার পাশে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে স্পষ্টভাবে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল।”

Advertisement
Advertisement