Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 18:18 pm
অন্যান্য

মেলান্দহে বিনোদনের নামে সরিষা ফসল ধ্বংসের অভিযোগ

মেলান্দহে বিনোদনের নামে সরিষা ফসল ধ্বংসের অভিযোগ

Oplus_131072

মুক্তকাল সংবাদদাতা, মেলান্দহ,জামালপুর:

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের টুপকার চর রৌমারী বিলে ফুলকি বিনোদন কেন্দ্রে ঘীরে কৃষকের সরিষা ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। ফুলকির মালিক মোঃ হিল্লোল সরকার।তিনি ঝাউগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। এলাকাবাসীর অভিযোগ,প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ব্যাপক দাপট দেখিয়ে আসছেন।
দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রৌমারী বিলে ফুলকিতে শত-শত তরুণ-তরুণীর ভিড়। কেউ সরিষা ক্ষেতের মাঝখানে বসে ছবি তুলছে, কেউ শুয়ে কিংবা সরিষা ফুল ছিঁড়ে ছবি তুলছে। এমনকি সরিষা ক্ষেতে বসেই অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার চিহ্ন পড়ে রয়েছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকদের সোনালি ফসল সরিষা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,দিনের বেলা বিনোদনের নামে ফসল নষ্ট করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে অপরাধপ্রবণতা।রাতে বহিরাগতদের মাদক সেবনের আড্ডাও বসে সেখানে। এসব চোখের সামনে ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ঝাউগড়া গ্রামের বাসিন্দা আতিক বলেন, “প্রতিদিন রৌমারী ফুলকীতে শত-শত তরুণ-তরুণী জড়ো হয়। বিনোদনের নামে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা, অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবন চলছে। মানুষের সরিষা ফসল নষ্ট হচ্ছে, লাভ হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতার, ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের। এই ক্ষতির দায় কে নেবে?”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শওকত বলেন, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তরুণ-তরুণীরা মানুষের সরিষা নষ্ট করছে। সন্ধ্যা নামলেই অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়। গভীর রাতে চলে মাদকের আড্ডা।”
সরিষা চাষিরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুলকী হওয়ায় দর্শনার্থীদের কারণে তাদের ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, ক্ষতির কথা বলতে গেলে হিল্লোল সরকারের লোকজন হুমকি দেয়। তারা বলে—আমাদের জমির মাঝেই দিছি, তোমাদের কী?এমন কথাও শুনতে হয়েছে বলে দাবি করেন চাষিরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. হিল্লোল সরকার বলেন,ফুলকীর আশপাশে আমার পরিবারের প্রায় ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে। ফসল নষ্ট হলে আমারই বেশি ক্ষতি হতো। এখানে মাদক সেবনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ করলে দূরের অন্য কোথাও করতে পারে।”
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আগে জানা ছিল না। এখন শুনলাম। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Advertisement

Advertisement