Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:07 pm
অন্যান্য

দুবাইয়ে মৃত্যুর ১৯ দিন পর দেশে ফিরল লাশ, জানাজা এড়িয়ে মরদেহ ফেলে পালালেন বাবা–সৎপরিবার

দুবাইয়ে মৃত্যুর ১৯ দিন পর দেশে ফিরল লাশ, জানাজা এড়িয়ে মরদেহ ফেলে পালালেন বাবা–সৎপরিবার

Oplus_131072

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যুর ১৯ দিন পর মরদেহ দেশে ফিরলেও শেষ বিদায়ে অনুপস্থিত থাকলেন জন্মদাতা বাবা। দুবাইয়ে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতে গিয়ে মাথায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে নিহত হন আনোয়ার হোসেন (৩৮)। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালেও রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে জানাজা ও দাফনের আগেই নিহতের বাবা, সৎমা ও সৎভাইয়েরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আনোয়ার হোসেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা মোড় এলাকার বাসিন্দা শাজাহান প্রামাণিক ওরফে সাজা বাঘার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই বছর আগে তিনি দুবাই যান। গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ওপর থেকে ভারী নির্মাণসামগ্রী পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৯ দিন পর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাজাহান প্রামাণিক তাঁর দ্বিতীয় সংসারের সন্তানদের নামে আগেই জমিজমা লিখে দিলেও প্রথম সংসারের সন্তান আনোয়ার কিংবা তাঁর রেখে যাওয়া দুই শিশুসন্তানের নামে কোনো সম্পত্তি রাখেননি। জানাজায় উপস্থিত থাকলে নিহতের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও সম্পত্তির দাবির বিষয়টি সামনে আসতে পারে—এই আশঙ্কায় বাবা ও সৎপরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের ধারণা।
গাবেরগ্রামের বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন,
“ছেলের লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে যাওয়া মানবিকতার চরম অবক্ষয়। আনোয়ার সারাজীবন কষ্ট করেছে, অথচ মৃত্যুর পরও সে অবহেলার শিকার।”
নিহতের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“আমার ভাই দ্বিতীয় সংসারের সন্তানদের সব দিয়েছে, কিন্তু আনোয়ারের দুই শিশুসন্তানের জন্য কিছুই রাখেনি। জানাজায় এলে মানুষ প্রশ্ন তুলত—এই ভয়ে তারা পালিয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের সৎভাই সবুজ আহমেদ বলেন,
“আমাদের বাবার ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল। মৃত ব্যক্তির লাশকে পুঁজি করে যেন কোনো দাবি আদায় করা না যায়—সে কারণেই আমরা জানাজায় যাইনি।”
ঘটনাটি এলাকায় পারিবারিক দায়িত্বহীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

Advertisement