Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 19:57 pm
অন্যান্য

বিএসএফের হাতে ১০ বছরে ৩৬ বাংলাদেশি নিহত, মহেশপুর সীমান্তে আতঙ্ক

বিএসএফের হাতে ১০ বছরে ৩৬ বাংলাদেশি নিহত, মহেশপুর সীমান্তে আতঙ্ক

মুক্তকাল ডেক্স:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় গত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মারধরে আহত হয়েছেন শতাধিক সীমান্তবাসী। এসব ঘটনায় পুরো মহেশপুর সীমান্ত এলাকা কার্যত ‘মৃত্যু উপত্যকা’তে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৭২ কিলোমিটার রয়েছে মহেশপুর উপজেলায়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও উন্মুক্ত। বাংলাদেশের অংশে যাদবপুর, মান্দারবাড়ীয়া, শ্যামকুঁড়, নেপা, কাজীরবেড় ও স্বরূপপুর ইউনিয়ন এবং ভারতের অংশে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাসখালী ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা অবস্থিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঘাডাঙ্গা, মাইলবাড়ীয়া, স্বরূপপুর, খোসালপুর ও শ্যামকুঁড় সীমান্তের বিপরীতে অবস্থিত ভারতের বিভিন্ন বিএসএফ ক্যাম্প থেকে নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এসব এলাকায় গত ১০ বছরে বিএসএফ গুলি করে ও পিটিয়ে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে।
সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর ভোরে পলিয়ানপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বাউলি গ্রামের কাসেম আলীর ছেলে আবদুর রহিম। তিনি ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলী থানার হাবাসপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে প্রাণ হারান।
এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আলম মিয়া, ওয়াসিম আলী, আবদুল মান্নান, আত্তাব আলী, ফজলুর রহমান, আবু সালেহ, লিপু হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, মিজানুর রহমান, সোহেল, রাশিদুল, আশা মিয়া, হারুন মিয়া, জসিম, লান্টু মিয়া, আমিরুল ইসলাম, আন্টু মিয়া, খয়জেল হোসেন, ওবাইদুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, খালেক মিয়া, আশাদুল ইসলাম ও শফিউদ্দিনসহ আরও অনেকে।
সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মহেশপুরে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৫ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। এর আগে দীর্ঘ এই সীমান্ত পাহারায় ছিল যশোর ৪৯ ও চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
বিজিবির একটি সূত্র দাবি করেছে, ৫৮ বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের পর সীমান্ত হত্যার ঘটনা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে সীমান্তে টহল জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও স্থানীয়দের সচেতন করতে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করছে। তারা কারণে-অকারণে গুলি চালাচ্ছে, ফলে সীমান্তবর্তী জমিতে চাষাবাদ ও গবাদিপশু চরাতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পর বিএসএফ আরও মারমুখী আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলেও এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না, যা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম পিএসসি বলেন, সীমান্ত হত্যা ও অপরাধ রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং সীমান্তবাসীদের সচেতন করতে কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

Advertisement
Advertisement