Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:32 pm
মাদারগঞ্জ

মাদারগঞ্জে থানার ভল্টে রাখা শতদল সমবায় সমিতির ৯৯ লাখ টাকা বিতরণ শুরু

মাদারগঞ্জে থানার ভল্টে রাখা শতদল সমবায় সমিতির ৯৯ লাখ টাকা বিতরণ শুরু

জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার ভল্টে সংরক্ষিত শতদল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির প্রায় ৯৯ লাখ টাকা গ্রাহকদের মাঝে ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে শতদল সমবায় সমিতির গ্রাহক মাজেদ ইসলামকে টাকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাদারগঞ্জ পৌরসভা ও ৪ নং বালিজুড়ী ইউনিয়ন এলাকার গ্রাহকদের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। যেসব গ্রাহকের আমানত ৩ লাখ টাকার নিচে, তাদের জমাকৃত অর্থের ৫ শতাংশ হারে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ৩ লাখ টাকার বেশি আমানতকারীরাও পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত পাবেন। তবে বৃহস্পতিবার তাদের অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে না।

Advertisement

এরই মধ্যে মাদারগঞ্জের ঝালুপাড়া এলাকার গ্রাহক শ্রীমতি রুপসী তাঁর শতদল সমবায় সমিতিতে জমা থাকা ২ লাখ টাকা থেকে ৫ শতাংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন।

টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী। টাকা বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, শতদল সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি মুঞ্জরুল ইসলাম মুসা, অর্থ উদ্ধার কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মুখলেছুর রহমান, আহ্বায়ক মমতাজুর রহমান, সদস্য সচিব মাফিদুল, সদস্য রকিবুল ইসলাম ও সোনা মোল্লাসহ সংশ্লিষ্টরা।

জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের ২৩টি সমবায় সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির গ্রাহকসংখ্যা ৩২ হাজার ৪২৪ জন। গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব সমিতিতে তাঁদের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ হাজার ১৫০ টাকা আটকে আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

এ অবস্থায় শতদল সমবায় সমিতির থানার ভল্টে থাকা ৯৯ লাখ টাকা থেকে গ্রাহকদের আমানতের অংশ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে আমানতের টাকা আটকে থাকায় অনেক গ্রাহক আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকেরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বঞ্চিত গ্রাহকেরা টাকা ফেরতের দাবিতে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

টাকা ফেরতের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও বড় অঙ্কের আমানতকারীদের টাকা ফেরতের সময়সূচি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পৌরসভা ও বালিজুড়ী ইউনিয়নের গ্রাহকদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের গ্রাহকদেরও অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

Advertisement