Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:30 pm
জামালপুর

ইসলামপুরে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইসলামপুরে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, জামালপুর:
জামালপুরের ইসলামপুরে মোছা. মঞ্জুরা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

গত সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিহতের মা রিনা খাতুন ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলাটি করেন। শুনানি শেষে আদালত ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অপমৃত্যুর (ইউডি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

Advertisement

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের স্বামী সুজন মিয়া, দেবর লোকমান ও লুৎফর, শাশুড়ি ছুরভানু এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নম্বর চর এলাকার আহাম্মদ আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুরার সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর চর এলাকার সুজন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে মঞ্জুরাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে আসছিলেন। গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে তারা ব্যর্থ হলে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ইসলামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন বলেন, ওসির ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে মরদেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করেন। পরে তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তার দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করায় একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে মামলায় জড়িয়েছে।
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ফাঁসিতে ঝুলে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে উঠানে মরদেহ পাওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি; তবে গলায় ফাঁস দেওয়ার মতো চিহ্ন ছিল।

ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গেছেন। আদালতের নির্দেশনা এখনো থানায় পৌঁছেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement