ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে জালিয়াতির মাধ্যমে এক সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তার ভাইয়ের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে অন্য উপজেলায় স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব কান্দারচর গ্রামের নূরনবী শেখ ও তার ভাই মিলন শেখ। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষের সময় থেকেই তারা ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূরনবী শেখ ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আগামী ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আবারও সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার ও ভাই মিলন শেখের ভোটার এলাকা ইসলামপুর থেকে পরিবর্তন করে মেলান্দহ উপজেলায় নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নূরনবী শেখ ও মিলন শেখের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয়। পরে ২৫ আগস্ট আবেদনগুলো ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অনুমোদনের পর মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নূরনবী শেখের ভোটার এলাকা দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা গ্রামে এবং মিলন শেখের ভোটার এলাকা জাঙ্গালিয়া গ্রামে স্থানান্তর করা হয়।
নূরনবী শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষের সময় থেকেই ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব কান্দারচর গ্রামে বসবাস করছি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিতও হয়েছি। এবার নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারি, আমার ও ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারি, সে জন্য স্থানীয় একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারীদের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে এ কাজ করেছে।’
মিলন শেখ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মেম্বার পদে প্রার্থিতা বাধাগ্রস্ত করতে অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে। স্থানীয় একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা নূরনবী শেখ ও মিলন শেখের ভোটার এলাকা পুনরায় চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘ভোটার এলাকা স্থানান্তরের যাবতীয় কাজ মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সম্পন্ন করেছে। আমরা শুধু অনুমোদন দিয়েছি।’
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামপুরের দুই বাসিন্দার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে মেলান্দহে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি, একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিল। তখন বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ভোটার এলাকা ঠিক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’




