মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
তীব্র গরমের মধ্যে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে বিদ্যুৎহীনতায় ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বন্ধ থাকছে, ফলে তীব্র গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে মশার উপদ্রবও বেড়ে যায়। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না তারা। বিশেষ করে রাতে লোডশেডিং হলে নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আবু সালেহ নাঈম বলেন, “আমাদের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৭ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি।”
এদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
চাঁদপুরের সাথী আক্তার বলেন, “এত গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এভাবে মানুষ কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে?”
গাবের গ্রামের সুমাইয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না, আবার পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
কামারপাড়ার আতিক বলেন, “চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এত কম হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে কীভাবে, দ্রুত সমাধান চাই।”
বালিজুড়ীর আক্তার হোসেন বলেন, “সারাদিন বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলছে, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ঘরের কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।”
জোনাইলের শিমু বলেন, “প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি, কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে তীব্র গরমের সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়ে দ্রুত লোডশেডিং কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন মাদারগঞ্জবাসী।




