আব্দুর রহিম খান।।
মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একের পর এক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের বাইরের দেয়ালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলে থাকা বিদ্যুৎ মিটার সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়দের জন্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সম্প্রতি কয়েক দফায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ফ্যান, বিদ্যুতের তার ও পানির ট্যাংকের পাইপ চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া হাসপাতালের প্রায় সব জানালার কাচ ভেঙে ফেলায় ভবনটির নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা নিয়মিত এখান থেকে চিকিৎসা ও ওষুধ নেন। তবে ভবনের দেয়ালে ঝুলে থাকা বিদ্যুৎ মিটার যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত মিটারটি নিরাপদ স্থানে স্থাপনের দাবি জানান তারা।
ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চোরেরা কয়েক দফায় ফ্যান, বিদ্যুতের তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করেছে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে নতুন ফ্যান কিনে লাগিয়েছেন। হাসপাতালের দরজা চারবার ভেঙে চুরি করা হয়েছে এবং প্রতিবারই কর্তৃপক্ষ মেরামত করে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তাই এর নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ মিটার দ্রুত অপসারণ বা নিরাপদভাবে স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
তেঘরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আকরাম হোসেন বলেন, চোরেরা বিদ্যুতের তার কেটে নেওয়ায় মিটারটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে চারবার দরজা ভেঙে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন একাই ৮০ থেকে ১৫০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ফ্যান, বিদ্যুতের তার, পাইপ ও সোলার প্যানেল চুরির বিষয়টি জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ মিটারের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ মিটার দ্রুত অপসারণ বা নিরাপদ স্থানে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন।




