Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:12 pm
মুক্তবিশ্ব

দিল্লিতে রণক্ষেত্র: ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ব্যাপক গ্রেপ্তার

দিল্লিতে রণক্ষেত্র: ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ব্যাপক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দিল্লিতে রণক্ষেত্র: ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ব্যাপক গ্রেপ্তার

Advertisement

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সংসদ ভবন-সংলগ্ন এলাকা। শিক্ষা ও চাকরি খাতে সংস্কারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সকাল থেকেই সংসদ ভবন, জন্তর মন্তর, শান্তি পথ, সংসদ মার্গ ও শাস্ত্রী ভবন এলাকায় বহুস্তর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে দিল্লি পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়, অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়।

দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রথমে মাইকিং করে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। পরে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে হুড়োহুড়ি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী আহত হন। দিল্লি পুলিশেরও কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক ও গ্রেপ্তার করে। আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদেরও হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, আটক হওয়া ব্যক্তিদের সবাই ছাত্র নন; তাদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীও রয়েছেন।

ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ এনে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব এবং জবাবদিহির দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ বলছে, অনুমতি ছাড়া সংসদ অভিমুখে মিছিল এবং নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে এটি অন্যতম বড় ছাত্র-যুব আন্দোলন। সংসদ ভবনের সামনে এমন সংঘর্ষ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement