সাজ্জাদ হোসাইন শাহীন, জামালপুর প্রতিনিধি ||
জমালপুরের মেলান্দহে মধ্যরাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, সেবা না দিয়ে হাসপাতালের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকেন ডাক্তার-নার্সরা। ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনে পাশে পান না নার্সদের।
গত শনিবার মধ্যরাতে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাতে দায়িত্বরত ডাক্তারকে জরুরি বিভাগে পাওয়া যায়নি। নার্স দরজা ভিতরে লাগিয়ে ঘুমাচ্ছেন। দরজার সামনে অপেক্ষায় রোগী ও স্বজনরা।
তাদের অভিযোগ, ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না নার্সদের। রাতে সেবা চাইতে গেলে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেন তারা।
রোগীরা জানান, ঠিকমতো নার্সরা আসেন না। সেবা তো দূরে থাক, প্রয়োজনের সময় অনুরোধ করেও আনা যায় না তাদের। ডাক্তার আর প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি।
মধ্যরাতে চিকিৎসা নিতে আসা লিয়াকত হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছি।এসে দেখি ডাক্তাররা ঘুমিয়ে আছে, ডাকলাম। এখনো ঘুমিয়েই আছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে জরুরি বিভাগে ডা. ওসমান গনি দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ ওয়ার্ডে দুজন নার্স দায়িত্বে ছিলেন।
তারা হলেন – শাপলা বেগম ও আয়েশা বেগম।
ডা. ওসমান গনি বলেন, পাশে নির্ধারিত রুমেই ছিলাম। মাঝে মাঝে ঘুমের ভাব আসে। বিষয়টি বললেন। সতর্ক হলাম। আর এমন হবে না।
তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন নার্সরা।
শাপলা নামে নার্স বলেন, রোগীর খোঁজ নিয়ে ওয়াশরুমে ছিলেন এমন দায়সারা কথা বলেন। রোগীরা যখন আসে তখনই সেবা দেয়া হয়। পাশাপাশি রাতে রোটেশন অনুযায়ী সেবা দেয়া হয় রোগীদের।
আরেক নার্স আয়েশা বেগম এ বিষয়ে কথা বলেননি। পাশে থাকা তার স্বামী সংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ করতে বারণ করেন।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী রফিকুল হক জানান, রাতে সাংবাদিকদের আসা ঠিক হয়নি। আমাকে জানাতে পারতো সাংবাদিকরা।আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। রাতে বিশ্রাম নিতেই পারে।এতে কোনো সমস্যা নেই।




