Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:29 am
ময়মনসিংহ বিভাগ

১৮ বছরের সংসারের ইতি, তালাক পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল

১৮ বছরের সংসারের ইতি, তালাক পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল

১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্ত্রী পাঠানো তালাকনামা হাতে পেয়ে ‘পাপমুক্তি’র দাবি করে গরুর দুধ দিয়ে গোসল করেছেন শেরপুর জেলার এক ব্যক্তি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে, শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মধ্য কুমড়ি গ্রামে। আলোচিত এই ব্যক্তির নাম ফজল মিয়া (৫০)। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মধ্য কুমড়ি গ্রামের মৃত আক্রাম হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে ফজল মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার ময়না বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে মেয়েকে ইতোমধ্যেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়। স্ত্রী ময়না বেগম প্রথমে শেরপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়ার কাজ নেন এবং পরে ঢাকায় গিয়ে একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি।

দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ তীব্র হয়। একপর্যায়ে ময়না বেগম তাদের এক সন্তান রেখে ঢাকায় বসেই স্বামীকে তালাকনামা পাঠান। তালাকনামা হাতে পাওয়ার পর ফজল মিয়া স্থানীয় বাজিতখিলা বাজারে জনসম্মুখে একটি বালতিতে গরুর দুধ ঢেলে গোসল করেন এবং বলেন, “পাপমুক্ত হলাম।”

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “১৮ বছর ভুল মানুষের সঙ্গে সংসার করেছি। তাই আজ এই গোসল করে নিজেকে মুক্ত মনে হচ্ছে। আমি অন্য পুরুষদেরও সাবধান করছি—কখনো স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন তাকে একা ঢাকায় পাঠাবেন না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী কয়েক মাস ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন, যা থেকে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

বাজিতখিলা ইউনিয়নের মেম্বার রুবেল মিয়া বলেন, “ঢাকায় যাওয়ার পর থেকেই ময়নাবেগমের সঙ্গে ফজলের যোগাযোগ ছিল না বলে জেনেছি। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। অবশেষে বুধবার ফজলের কাছে তালাকনামা পৌঁছায়, আর এরপরই ঘটে দুধ দিয়ে গোসলের ঘটনাটি।”

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.