Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 18:19 pm
ময়মনসিংহ বিভাগ

১৫ বছর পর দেশে ফিরে সন্তানের লাশ পেলেন বাবা!

১৫ বছর পর দেশে ফিরে সন্তানের লাশ পেলেন বাবা!

মাত্র ২ বছর বয়সে বাবার স্নেহছায়া হারান নুরুদ্দিন হোসেন। তার বাবা, কামাল হোসেন, পরিবারের সচ্ছলতার আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর, মঙ্গলবার (২৪ জুন) দেশে ফেরেন তিনি।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—বাবার ফেরা দিনই লাশ হয়ে বাড়ি ফেরে নুরুদ্দিন। ১৭ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় সে। বাবার সঙ্গে বহুদিনের অপেক্ষার দেখা আর হলো না।

Advertisement

বুধবার রাতে দাফনের পর এ ঘটনায় এলাকায় জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় একটি ওভারব্রিজ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে মারা যায় নুরুদ্দিন।

নিহত নুরুদ্দিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরের কামাল হোসেনের ছেলে।

চলতি বছর মোহনগঞ্জ আদর্শ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে ৪০ দিনের তাবলিগ জামাতে বেরিয়ে ভাঙ্গায় অবস্থান করছিল। ছয় দিন পরে তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। তাই মঙ্গলবার বিকেলে সফরসঙ্গী বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর দেখতে যান।

স্থানীয় পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজের ওপর থেকে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায় নূরুদ্দিন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নুরুদ্দিনের সাথে যাওয়া বন্ধু মহসিন শেখ বলেন, ‘নুরুদ্দিন শান্ত, মেধাবী আর ধার্মিক প্রকৃতির ছিল। পরীক্ষা শেষ করে এলোমেলো না ঘুরে তার উৎসাহেই আমরা চিল্লায় বের হই। আমরা চিল্লা শেষ করে কয়েক দিন পর সবাই যার যার বাড়ি ফিরব, সেই আনন্দেই ছিলাম। কিন্তু আনন্দ যে এমন করুণ বেদনা হয়ে উঠবে তা ভাবতে পারিনি।

তিনি বলেন, বিকেলে ঘোরাফেরা শেষে মাগরিবের আজান হলে জামাতে অংশ নিতে দ্রুত ঈদগাহ মসজিদের দিকে রওনা হই। চার বন্ধু পেছনে, নুরুদ্দিন অনেকটা সামনে ছিল। অন্ধকারে ব্রিজের ওপর থেকে অসাবধানতায় নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।’

মহাসিন আরও বলেন, ‘১৫ বছর পর মঙ্গলবার ওর বাবা দেশে এসেছেন। ওর সঙ্গে ফোনেও কথা হয়েছে। এখন ওর বাবাকে আমরা কী বলব! কী জবাব দেব!’

জানতে চাইলে নুরুদ্দিনের বাবা কামাল হোসেন বলেন, ‘মাত্র দুই বছর বয়সে তাকে রেখে গেছি। ছেলে আমার অনেক বড় হয়েছে। মঙ্গলবারও আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কখন দেশে পৌঁছাবো জানতে চেয়েছে। আমি যেদিন দেশে এসেছি সেদিনই সে মারা গেল! এই শোক মেনে নিতে পারছি না। দেশে এসে ছেলের দাফন করতে হবে ভাবিনি।’

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন জানান, ‘ঘুরতে গিয়ে ব্রিজ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় ওই তরুণ। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.