Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:59 pm
ময়মনসিংহ বিভাগ

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতার গুদামে মিলল ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতার গুদামে মিলল ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. খোকন আহমেদের গুদাম থেকে ৩০৪ বস্তা অবৈধভাবে মজুত করা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মদনের অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জামিউল ইসলাম সাকিব।

Advertisement

এর আগের দিন, শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় কেন্দুয়া পৌরসভার বাদে আঠারো বাড়ি এলাকায় অবস্থিত মেসার্স নাহার ট্রেডার্স নামে খোকন আহমেদের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানে ১৩ হাজার কেজিরও বেশি (৩০৪ বস্তা) সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযান চলাকালে খোকন আহমেদ পালিয়ে যান। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল গোপনে নিজের গুদামে মজুত করেন তিনি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে দেখা যায়, চালগুলো ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। বঙ্গানিয়া মোড়ে ভ্যানটি আটক করে পুনরায় গুদামের সামনে আনা হয়। পরে ভ্যানসহ গোডাউন থেকে মোট ৩০৪ বস্তা চাল জব্দ করা হয়, যার ওজন প্রায় ১৩,৫১৫ কেজি এবং বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৩০ টাকা।

জব্দকৃত চালগুলোর মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের পাটের বস্তা, টিসিবির বস্তা এবং বিভিন্ন রঙের প্লাস্টিকের বস্তা ছিল। অভিযানের সময় খোকন আহমেদকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে জব্দকৃত চাল কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত খোকন আহমেদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি, যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি ত্রাণের চাল মজুত করে রাখা এবং সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা একটি গুরুতর অপরাধ। তারা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে দেরি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে খোকন আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “জব্দকৃত চালগুলো উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। আজ রাতে কর্মস্থলে ফিরব। ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। ফিরে এসে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেনা কর্মকর্তা জামিউল ইসলাম সাকিব বলেন, “এই চাল ঈদ উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ছিল। অভিযানের সময় কিছু লোক কাগজপত্র দেখিয়ে দাবি করেন, বিতরণের পর বেঁচে যাওয়া চাল তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কিনেছেন। প্রশ্ন হলো, অনুমতি থাকলে তারা কেন চাল লুকিয়ে রাখবে?”

তিনি আরও বলেন, “বেঁচে যাওয়া চাল বিক্রির নিয়ম আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি ফিরলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.