Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 21:01 pm
জামালপুর

বকশীগঞ্জে চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য

বকশীগঞ্জে চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য

জামালপুর প্রতিনিধি||

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের তুলনায় ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।

এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যেখানে মানবিক শাখা থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। ফলে এই শাখায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশ (০%)।

অপ্রত্যাশিত এই ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মাঝে গভীর হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে মোট ৬ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে। এর মধ্যে ৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী চারজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ, পুরো মানবিক বিভাগ থেকে কেউ পাস করতে পারেনি।

চন্দ্রবাজার রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম ফলাফলে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত হতাশ। কেন এমন হলো, তা খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলার প্রথম সারির কলেজগুলোর ফলাফলের চিত্রও হতাশাজনক। বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে মোট ৭০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২৩০ জন এবং ফেল করেছে ৪৭৯ জন। কলেজটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। খাতিমুন মঈন মহিলা ডিগ্রী কলেজে মোট ২৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৯ জন, যেখানে ১৮৬ জন ফেল করেছে। কলেজটিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।

একইভাবে, আলহাজ্ব আমানুজ্জামান মডার্ন কলেজে ২৯৬ জনের মধ্যে ১২৫ জন পাস ও ১৭১ জন ফেল করেছে। নিলাক্ষিয়া পাবলিক কলেজে ৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ জন পাস করেছে। রাহেলা কাদির স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেবল ১ জন পাস করতে পেরেছে।

এ বছর বকশীগঞ্জ উপজেলায় সাধারণ শাখায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ। সাধারণ শাখায় মোট ১৩২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৪০ জন এবং ফেল করেছে ৮৮০ জন। সাধারণ শাখায় মোট জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১৮ জন। তবে বিএমটি শাখায় পাসের হার ৫৯.০৬ শতাংশ এবং আলিম পরিক্ষায় ৭৯.৮৮ শতাংশ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন এই পরিস্থিতিকে ‘খুবই হতাশাজনক’ উল্লেখ করে বলেন, “একটি কলেজে কেউ পাস করেনি—এটি মানা যায় না। কিভাবে পাঠদান করা হয়, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং এত অবনতি কেন হলো, সে কারণ খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিব।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতি. দায়িত্ব) মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভুঁইয়া মন্তব্য করেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের একটি বিভাগে সকল শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়াটা দুঃখজনক। এই চরম ব্যর্থতা স্কুল অ্যান্ড কলেজটির সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।”

স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ঘাটতি, নিয়মিত পাঠদানে শিক্ষকদের অনীহা এবং যথাযথ তদারকির অভাবই এমন ফলাফলের জন্য দায়ী। তাঁরা দ্রুত পাঠদান পদ্ধতি শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।

Advertisement