Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:54 am
অন্যান্য

মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন জামায়াতের সাবেক নেতা

মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন জামায়াতের সাবেক নেতা

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স:
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ছিলেন।
রোববার বিকেলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় উপজেলা চত্বরে ফুলবাড়ীয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন,
“আজ মনোনয়নপত্র জমার মধ্য দিয়ে একটি নতুন প্রত্যাশার সূচনা হলো। শিক্ষা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী আমরাই প্রথম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে জনগণই বিজয় নিশ্চিত করবে।”
দলীয় অবস্থান প্রসঙ্গে সোমবার রাতে তিনি আমার দেশ–কে জানান, কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই প্রথমে তার সদস্যপদ স্থগিত এবং পরে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“দল থেকে আমাকে কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই বহিষ্কারের খবর জানতে পারি। আমার জনপ্রিয়তা দেখে কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুলবাড়ীয়ার মানুষ আমাকে নির্বাচন করতে চায়—সেটাই হয়তো কারও ভালো লাগেনি।”
‘ফুলবাড়ীয়া ঐক্যবদ্ধ জনতা’র আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম জানান, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াতের দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও স্থানীয় বিভাজন ও ভোট কারচুপির অভিযোগে পরাজিত হন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন, একাধিক মামলায় কারাভোগ এবং পেশাগত জীবনেও বৈষম্যের শিকার হয়ে তিনি অবসরে যেতে বাধ্য হন।
ফুলবাড়ীয়া থানা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন মঞ্জু বলেন,
“জসিম স্যার ফুলবাড়ীয়া জামায়াতের ইতিহাসের অংশ। তার মতো ক্লিন ইমেজের নেতা ছাড়া এই আসনে জয়লাভের চিন্তা অবাস্তব।”
স্থানীয় আরেক নেতা এ কে এম মোফাজ্জল হক তারা বলেন,
“ফুলবাড়ীয়া আসনে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। স্থানীয় মানুষের আবেগ ও দাবিকে উপেক্ষা করলে দলকে বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।”
উল্লেখ্য, অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে কোনো ধরনের শোকজ নোটিশ ছাড়াই সোমবার জামায়াত থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহা. কামরুল হাসান মিলনকে। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনি লড়াইয়ে নামলেন অধ্যাপক জসিম উদ্দিন।

Advertisement
Advertisement