Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:51 pm
অন্যান্য

বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার আবাদি জমি লীজ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত, কৃষকদের আগ্রহ কম

বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার আবাদি জমি লীজ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত, কৃষকদের আগ্রহ কম

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।।
জামালপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার মালিকানাধীন সকল আবাদি জমি এক বছরের জন্য লীজ প্রদান কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে খোলা ডাকের (উন্মুক্ত নিলাম) মাধ্যমে লীজ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নিলামে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাছে নগদ মূল্যে জমি লীজ প্রদান করা হচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, লীজ কার্যক্রম থেকে ১০ লক্ষ ২ দুই হাজার টাকা নগদ আদায় হয়েছে এবং ডাক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ একর আবাদি জমি এ বছরের লীজ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার লীজ গ্রহণে কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা এর প্রধান কারণ হিসেবে কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর একই সময়ে লীজের জন্য ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র নেই। ফলে অনেক জমির লীজ মূল্যও গত বছরের তুলনায় কম হচ্ছে। তাদের মতে, কৃষকরা বর্তমানে কৃষিকাজে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না, যার প্রভাব লীজ কার্যক্রমেও পড়েছে।
গত বছর মাদ্রাসার জমি লীজ নিয়ে আবাদ করা কয়েকজন কৃষক জানান, ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষিকাজে লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
একজন কৃষক বলেন, “এখন জমি আবাদ করে লাভ করা খুব কঠিন। ফসলের দাম কম, কিন্তু উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। বেশি দামে লীজ নিলে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে যায়।”
আরেক কৃষক জানান, “কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকদের পক্ষে উচ্চমূল্যে জমি লীজ নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এবার অনেকেই লীজ কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন।”
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকদের আগ্রহ আরও কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, লীজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই আরও কিছু আগ্রহী কৃষক অংশগ্রহণ করবেন এবং বাকি জমিগুলোরও সন্তোষজনক দর পাওয়া যাবে। তবে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে লীজ নীতিমালায় কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Advertisement
Advertisement