আব্দুর রহিম খান
বাংলা আমার প্রথম উচ্চারণ।
মায়ের মুখে শোনা স্নেহমাখা শব্দ,
কোনো পাঠশালার বই নয়,
মায়ের কোলেই শেখা প্রাণের ভাষা।
শিশু প্রথম কাঁদে বাংলায়,
হাসে বাংলায়,
ডাকে তার আপনজনকে বাংলায়।
এই ভাষাই তাকে পরিচয় করায় পৃথিবীর সঙ্গে,
মাটির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে।
বাংলা একদিনে গড়ে ওঠেনি।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
বিভিন্ন ধ্বনি, শব্দ আর সংস্কৃতির মিশ্রণে
এ ভাষা হয়েছে সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত।
শুদ্ধ রূপে আছে তার সৌন্দর্য,
সহজ চলনে আছে আপনত্ব,
লোকশব্দে আছে মাটির গন্ধ।
প্রাচীন সাধকদের বাণীতে
প্রথম স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বাংলার সুর।
সেই অক্ষরে ফুটে উঠেছিল
মানুষের জীবন, সমাজের ছবি,
আনন্দ ও বেদনার গল্প।
তারপর এলো সংগ্রামের সময়।
ভাষার মর্যাদা রক্ষায়
এ দেশের সাহসী তরুণেরা বুক পেতে দাঁড়ালেন।
তাদের আত্মত্যাগে বাংলা পেয়েছে স্বীকৃতি ও সম্মান।
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মর্যাদা
আমাদের ইতিহাসের গর্ব।
আজ বিশ্বজুড়ে ভাষা আন্দোলনের কথা উচ্চারিত হয়।
তবু প্রশ্ন থেকে যায়—
আমরা কি নিজের ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দিচ্ছি?
দফতরের কাজে, শিক্ষার পাঠে,
প্রতিদিনের ব্যবহারে
বাংলা কি তার প্রাপ্য স্থান পাচ্ছে?
নিজের ভাষাকে অবহেলা করা মানে
নিজের পরিচয়কে ছোট করা।
তাই আসুন,
শুদ্ধ উচ্চারণে, যত্নশীল লেখায়,
সচেতন চর্চায়
বাংলাকে করি আরও সমৃদ্ধ।
কারণ বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়—
এ আমাদের আত্মপরিচয়,
আমাদের শিকড়,
আমাদের গর্বের নাম।




