মুক্তকাল ডেক্স:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিরপেক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
একই সময়ে খুলনা স্টেডিয়াম থেকে যশোর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে যুক্ত সদস্যদের সঙ্গে ডিজিটাল জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন মহাপরিচালক, যা বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত প্রস্তুতির দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মহাপরিচালক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম সারির প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও দৃঢ় মনোবলই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ‘নির্বাচনি সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রদান করবেন, যাতে টহল টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সদস্য বাছাই ও ভাতা বিতরণে ‘এসটিডিএমএস (STDMS)’ সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বৈধ মিডিয়া, পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণ এবং ক্যামেরা সংযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মহাপরিচালক বলেন, “নির্বাচনি দায়িত্ব একটি পবিত্র আমানত। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য সরাসরি নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই বাহিনী একটি নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি আধুনিক প্রযুক্তি, দৃঢ় মনোবল ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব




