Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:07 pm
অন্যান্য

কুমিল্লায় বিএনপির দুর্গে হানা দিতে প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি

কুমিল্লায় বিএনপির দুর্গে হানা দিতে প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স
কুমিল্লা জেলা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অধিকাংশেই অতীতে বিএনপি প্রাধান্য বজায় রেখেছে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
বিএনপির তিনটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং আরও দুটি আসনে দলীয় প্রার্থীর অযোগ্য ঘোষণার ফলে অন্তত ছয়টি আসনে দলটির পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০-দলীয় জোটের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার তৎকালীন ১২টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পায় আটটিতে। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটি ১১টি আসনে বিজয়ী হয় এবং বাকি একটি আসনে জয় পায় জামায়াতে ইসলামী। সে সময় বিএনপি–জামায়াত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট ৮১ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ জন দলীয় প্রতীকে এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। গত বুধবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রেজা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বিতরণ করেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনীতিতে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার কয়েকটি আসনে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যেসব আসনে বিএনপির ঝুঁকি বেশি
কুমিল্লা–২ (হোমনা–তিতাস)
বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিপরীতে সাবেক এপিএস আব্দুল মতিন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ভোট বিভক্তির আশঙ্কা রয়েছে। এতে জামায়াত প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার)
বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ একক শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা)
বিএনপির দলীয় প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল ইসলাম শাওন থাকায় মূল লড়াই বিএনপির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
কুমিল্লা–৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ)
বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে জামায়াত প্রার্থী ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট–লালমাই)
বিএনপির প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ইয়াসিন আরাফাতের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কুমিল্লা–১১ (চৌদ্দগ্রাম)
ঐতিহ্যগতভাবে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এগিয়ে রয়েছেন।
যেখানে বিএনপি এখনও শক্ত অবস্থানে
কুমিল্লা–১, ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর আসনগুলোতে দলীয় কোন্দল না থাকায় বিএনপি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

Advertisement
Advertisement