আতিকুর রহমান আতিক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তির জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেসব প্রার্থী ও ব্যক্তি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য গানম্যান ও বডিগার্ড মোতায়েন করা হবে।
পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে গানম্যান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে ইউনিফর্মধারী বডিগার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রার্থী ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ব্লগার ও সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিরাপত্তা প্রটোকল প্রযোজ্য হবে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
রোববার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী—অতিঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ—তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, “কারও ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, আবার কারও জন্য নির্দিষ্ট সময় প্যাট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ঝুঁকি বিবেচনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি সমন্বিত নিরাপত্তা প্রটোকল প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আওতায় বাসা ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, চলাচলের পথে গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসভা ও সাইবার স্পেসে সতর্কতা সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকবে।
তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ ঘটনার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং জামিনে মুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।




