Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:22 pm
অন্যান্য

কিশোরগঞ্জে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ‘হাঁস’ ও ‘মুরগি’ প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে

কিশোরগঞ্জে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ‘হাঁস’ ও ‘মুরগি’ প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে

মুক্তকাল ডেক্স:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় নির্বাচনী লড়াইয়ে বহাল থাকেন।
কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এই দুই নেতা। প্রতীক বরাদ্দের দিনে একজন পেয়েছেন ‘মুরগি’ এবং অপরজন ‘হাঁস’ প্রতীক। এরপর থেকেই তারা পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন।
কিশোরগঞ্জ-১: মুরগি প্রতীকে চুন্নু
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একসময় ঢাকা বিভাগের স্পেশাল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামলেও স্থানীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূল সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মুরগি প্রতীক পাওয়ার পর তিনি বলেন, জনগণই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং বিজয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম।
কিশোরগঞ্জ-৫: হাঁস প্রতীকে ইকবাল
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
এবার প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেলেও শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্তে তা পরিবর্তন হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, হাওর এলাকার মানুষ ও নিকলী-বাজিতপুরের ভোটাররাই তাকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে এবং জনগণের শক্তিতেই তিনি বিজয়ী হবেন।
দলীয় বিভক্তি ও রাজনৈতিক উত্তাপ
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, শুরুতে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে তারা বৈধতা ফিরে পান। পরে দলের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হলেও তারা অনড় থাকেন।
এই দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দলটির একাংশ মনে করছে, ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই এই দুই নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রমাণ করবেন।

Advertisement
Advertisement