জামালপুরের মাদারগঞ্জে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানের অনুষ্ঠানের ব্যানারে একাধিক বানান ও ভাষাগত ভুল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকদের আয়োজিত একটি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের ব্যানারে অন্তত ১০টি ভুল ধরা পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে ব্যানারটি কে তৈরি করেছে এবং ভুলের দায় কার, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে চোখে পড়া ভুলগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সম্মাননা’র পরিবর্তে ‘সমাননা’, ‘মাদারগঞ্জ’ এর পরিবর্তে ‘মাদরগঞ্জ’, ‘মানি’র পরিবর্তে ‘ম্যান’, ‘একাডেমিক’ এর পরিবর্তে ‘একাডেমি’ এবং ‘ভোকেশনাল’ এর পরিবর্তে ‘ভোকোশনাল’ লেখা। এছাড়া বিভিন্ন পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম ও বাক্য উপস্থাপনেও অসংগতি দেখা গেছে।
ব্যানারে লেখা হয়েছে ‘জিপিএ ৫ প্রাপ্তশিক্ষার্থীদের সমাননা প্রদান’, যেখানে ‘সম্মাননা’ শব্দটি ভুলভাবে লেখা হয়েছে। একইভাবে অতিথি ও আয়োজকদের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় বানান ও ভাষাগত ত্রুটি রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যানারের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ব্যানারটি শিক্ষক সমিতি তৈরি করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যানারটি বিএনপি নেতারা কেন তৈরি করেছেন, জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, “সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি দলীয় ব্যানারে করার কথা ছিল। তাই তারাই ব্যানার তৈরি করার দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি শিক্ষক সমিতির নামে ব্যানার করার কথা বলেন। যেহেতু তারা ইতোমধ্যে প্রেসে ব্যানার তৈরি করেছিল, তাই সেই ব্যানারই আনা হয়েছে।”
এদিকে ব্যানারের ভুলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, “কম্পিউটারে লেখার সময় ভুল হয়েছে। সময় কম থাকায় ব্যানারটি ভালোভাবে চেক করা হয়নি।”
অন্যদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল হায়দার বলেন, “আমাকে অতিথি করা হলেও আমি উপস্থিত ছিলাম না। যার কারণে আমি বিষয়টি জানি না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ বানান, ভাষা ও ব্যাকরণ শেখান শিক্ষকরা। অথচ তাঁদের আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের ব্যানারে এতগুলো ভুল থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের মতে, একটি-দুটি বানান ভুল অনিচ্ছাকৃতভাবে হতে পারে। কিন্তু একই ব্যানারে একাধিক ভুল থাকলে প্রকাশের আগে তা যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার মতো একটি অনুষ্ঠানের প্রচারসামগ্রীতে শুদ্ধতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।
তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের ব্যানার প্রকাশের আগে বানান, ভাষা ও তথ্য যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ব্যানারের ভুল নিয়ে দায় কার, সে প্রশ্নে একদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলছেন, ব্যানারটি বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল; অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, কম্পিউটারে লেখার সময় ভুল হয়েছে এবং সময়ের স্বল্পতার কারণে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার একটি আয়োজন শেষ পর্যন্ত ব্যানারের ভুলের দায়-দায়িত্ব নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




