জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জোড়খালী বাজারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে গণভোট, জুলাই সনদ, ইসলামী রাষ্ট্র ও ইসলামী রাজনীতি, নির্বাচন, কুরআন-হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা এবং একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গুনারীতলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান আজাদী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক রহমতুল্লাহ, গুনারীতলা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং গুনারীতলা ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি ও গুনারীতলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিপসন মিয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি সেক্রেটারি সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তারা বলেন, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
ইসলামী রাষ্ট্র ও ইসলামী রাজনীতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ইসলামী রাজনীতির মূল লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা অর্জন নয়; বরং ন্যায়, ইনসাফ, আমানতদারি ও জনকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, একজন মুসলমানের জীবন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও কুরআন-সুন্নাহর নীতিমালা অনুসরণের চেষ্টা করতে হবে। সততা, তাকওয়া, আমানতদারি, ধৈর্য, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতাকে একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কুরআনের নির্দেশনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, আল্লাহ ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির আচরণে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে নীতি, আদর্শ ও মানুষের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সহযোগী সদস্যদের উদ্দেশে নেতারা বলেন, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামী আদর্শের অনুশীলন করতে হবে। কুরআন অধ্যয়ন, হাদিসের জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত ইবাদত, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে দেশের শান্তি, কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও মানুষের সার্বিক মুক্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।




