স্টাফ রিপোর্টার:
আগে ১৭ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর ১৭ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিদা আক্তার (৪৪)। এবার নতুন করে তার স্বাক্ষর করা চেক নিয়ে আবারও তাকে চেক ডিজঅনার মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
শাহিদা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী মো. তোতা মিয়া নিজ বাড়িতে তাকে চাপ প্রয়োগ করে চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। সংসার করার ‘আমানত’ হিসেবে চেকটি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার। এ সময় সজীব, আশরাফুল ইসলাম, রঞ্জু, হালিম মিয়া, হুমায়ুন, রাব্বানা, সুখী ও সুফিয়া খাতুন নামে কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি। তাদের বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশ করে চেক নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শাহিদা।
তার দাবি, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বামীর বাড়িতে তাকে চেক লিখে দিতে বাধ্য করা হয়। পরে ওই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
শাহিদা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী এর আগেও প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকার চেক নিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা দিয়ে আমাকে প্রায় দেড় মাস জেল খাটিয়েছে। পরে ১৭ লাখ টাকা দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা হয়। এখন আবারও একইভাবে আমার স্বাক্ষর করা চেক নিয়ে আমাকে নতুন করে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এই নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই।”
তিনি জানান, আগের চেকবই হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি মাদারগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ব্যাংক থেকে নতুন চেকবই সংগ্রহ করেন। তার অভিযোগ, নতুন চেকবই থেকেও ০০৭৫০৫৩, ০০৭৫০৫৪ ও ০০৭৫০৫৫ নম্বরের তিনটি চেকের পাতা তার স্বামী নিয়ে যান।
শাহিদার দাবি, ওই তিনটি চেকের মধ্যে ০০৭৫০৫৩ নম্বর পাতায় তার স্বাক্ষর এবং ১৭ লাখ টাকার অঙ্ক লেখা হয়েছে। চেকটি মাদারগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের তার হিসাবের বলে জানান তিনি। ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তার কারণে হিসাব নম্বরটি প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, প্রথম চেকবই/চেকের পাতা হারানোর ঘটনায় শাহিদা আক্তার ৬ জুন ২০২৬ মাদারগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ২৬২, ট্র্যাকিং নম্বর 955ARX। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে বালিজুড়ি বাজার এলাকা থেকে চেকের পাতা নিজের অজান্তে হারিয়ে যায়। বালিজুড়ি থেকে শেরপুর যাওয়ার পথে রাস্তার মোড়ে চেকটি হারিয়ে গেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।
এরপর নতুন চেকবই সংগ্রহের পর স্বাক্ষর করা তিনটি চেকের পাতা নেওয়ার অভিযোগটি আদালতে তুলে ধরেছেন শাহিদা। সংশ্লিষ্ট নথিতে মামলা নম্বর ২১৯ উল্লেখ রয়েছে।
শাহিদা আক্তারের আরও অভিযোগ, তার স্বামী এর আগেও তার কাছ থেকে তিন ভরি সোনার গয়না বিক্রির মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া তার বাসায় থাকা ঘরের ফার্নিচারসহ প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চার সন্তানের মা শাহিদা বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তিনি জানান, ২৩ জুলাই ২০২৬ হালগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ছুটির আবেদন দিয়ে মাদারগঞ্জে আসেন। এরপর ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা ছুটিতে রয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
শাহিদা বলেন, “আমি চার সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। বারবার আমাকে মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই এবং এর বিচার চাই।”

