Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:39 pm
মাদারগঞ্জ

মাদারগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তার সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ, চাকরি-ভাতার প্রলোভনে টাকা নেওয়ার দাবি

মাদারগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তার সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ, চাকরি-ভাতার প্রলোভনে টাকা নেওয়ার দাবি

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তার সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন এবং বিধবা, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নাম, সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রতারণার অভিযোগে জামালপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করার আবেদন করেছেন মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ও এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা ডা. মো. খোরশেদ আলম।

Advertisement

জামালপুর সদর থানায় দেওয়া আবেদনে ডা. মো. খোরশেদ আলম উল্লেখ করেন, তার নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগে মাদারগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামের মো. মারুফ (২২), পিতা আব্দুল্লাহ ওরফে বলাই এবং একই এলাকার মো. আব্দুস সালাম মন্ডল (৬৫), পিতা ইনতুইল্লা মন্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কথিত কাগজপত্র দেখিয়ে মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মারুফের সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের মধ্যে ২ লাখ টাকা হারুনকে এবং আড়াই লাখ টাকা ডা. মো. খোরশেদ আলমকে দেওয়া হয়েছে। তবে মারুফের এই দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

মারুফের বক্তব্য অনুযায়ী, ২ লাখ টাকা ও আড়াই লাখ টাকা মিলে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হয়। ফলে তার উল্লেখ করা মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে বাকি ২০ হাজার টাকা কোথায় দেওয়া হয়েছে বা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। পুরো অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে মারুফের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, টাকা নেওয়ার সময় তার মামা ডা. জাহাঙ্গীর আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে তারই বক্তব্য অনুযায়ী, নেওয়া অর্থের একটি অংশ হারুন এবং ডা. খোরশেদ আলমকে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। ফলে কার নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হয়েছে, কার কাছে অর্থ পৌঁছেছে এবং প্রকৃতপক্ষে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মারুফের বক্তব্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ‘হারুন’ নামের আরও একজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাজরাবাড়ী এলাকার ওই ব্যক্তি নিজেকে ডা. খোরশেদ আলম পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এই অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অভিযোগে নাম থাকা আব্দুস সালাম মন্ডলকে নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য ভিন্ন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি একজন নিরক্ষর ও সহজ-সরল মানুষ এবং প্রতারণার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নাও থাকতে পারে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, ‘মারুফ আমাকে মাঝে মাঝে চা খাওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। এর আড়ালে সে মানুষের কাছ থেকে ভাতা ও চাকরির কথা বলে টাকা নিত, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচার করা হোক।’

অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, ‘আমার নাম ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমিও চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

ডা. মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে, বিষয়টি জানতে পেরেই আমি জামালপুর সদর থানায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করার আবেদন করেছি। যারা আমার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে এবং আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। ওই ছেলেটি (মারুফ) বর্তমানে এলাকায় নেই। সে পলাতক রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু চাকরির প্রলোভন নয়, বিধবা ও বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার নাম, সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে মারুফের ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া, ওই অর্থের একটি অংশ হারুন ও ডা. খোরশেদ আলমকে দেওয়ার দাবি, ডা. জাহাঙ্গীর আলমের নাম ব্যবহার এবং আব্দুস সালাম মন্ডলের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি। পুলিশ বলছে, মাদারগঞ্জ মডেল থানায় এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। ফলে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা, অর্থ লেনদেন এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

Advertisement