আব্দুর রহিম খান
মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর আদারভিটা ইউনিয়নের গুনেরবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত প্রায় সব সম্পদ আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মির্জা আজম কলেজসংলগ্ন গুনেরবাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক লুৎফর রহমান (লতু খান), তিনি মির্জা আজম কলেজের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘরের আইপিএসের ব্যাটারি থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও ঘরের কোনো মূল্যবান মালামাল রক্ষা করতে পারেননি।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বসতঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের চেষ্টায় ঘরের পাশে রাখা কিছু ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়।
আগুনে নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত লুৎফর রহমান (লতু খান) বলেন, “দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ও সংসারের প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় আছি। সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠনের সহযোগিতা পেলে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”
মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের টিম লিডার রইছ উদ্দিন জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ততক্ষণে বসতঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইপিএসের ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।




