হৃদয় আহম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
মাদক ও মোবাইল আসক্তির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে ‘স্টপ ড্রাগস, স্টার্ট রানিং’ প্রতিপাদ্যে জামালপুরে ৫ কিলোমিটার মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়াম চত্বর থেকে ম্যারাথনের উদ্বোধন করা হয়। স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে চালাপাড়া মোড় ঘুরে পুনরায় স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয় এই দৌড়। অ্যাডভোকেট রিশাদ রেজওয়ান বাবু ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এ কর্মসূচির।
ম্যারাথনে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল থেকে এসে ম্যারাথনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রানা মিয়া বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ম্যারাথনের খবর দেখে নিবন্ধন করি। এর আগেও জামালপুর ম্যারাথনে অংশ নিয়ে রানার্সআপ হয়েছিলাম। এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আয়োজনটি সত্যিই অসাধারণ ছিল। এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।”
ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রতিযোগী আল-আমিন বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের আয়োজন খুবই প্রয়োজন। খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ জীবনধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
অংশগ্রহণকারী শাওন বলেন, “নারীদের এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া ইতিবাচক দিক। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের ম্যারাথনের আয়োজন হলে আরও অনেক তরুণ-তরুণী অংশ নিতে উৎসাহিত হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক ও মোবাইল আসক্তি বর্তমান প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। তরুণদের সুস্থ জীবনধারা, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রতি উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও সময়ের দাবি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ, যুবক ও শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো মাদক। এটি এখন দেশের জন্য বড় শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় সংসদে মাদকবিরোধী আইন নতুনভাবে পাস হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত অবস্থান আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আমার প্রথম বক্তৃতায় আমি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও সমানভাবে জরুরি।”
অ্যাডভোকেট রিশাদ রেজওয়ান বাবু ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, “মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রেখে স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
ম্যারাথন শেষে ছেলে ও মেয়েদের পৃথক বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগীকেও স্মারক মেডেল প্রদান করা হয়।
