আব্দুর রহিম খান,
মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি ||
জামালপুরের মাদারগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১৬ জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক।
সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তারা নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা আরও বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে কোনো বিভেদ নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের ত্যাগ ও সংগ্রামের শিক্ষা ধারণ করে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনও কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার তিনজন সহ সকল শহিদ পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জুলাই আন্দোলনে শহিদ মোস্তফার মা মর্জিনা বেগম বক্তব্য দিতে গিয়ে সন্তান হারানোর স্মৃতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আপ্লুত হন।
সভায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান, মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি রফিকুল বারী বক্তব্য দেন।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়কারী লেমন মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব রবিন চৌধুরী এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা আরিফুল ইসলাম, তাপসী আক্তার ও সুবর্ণা আক্তার বক্তব্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আহতদের পুনর্বাসন, শহিদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোয়াজ আলী, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুস্মিতা দত্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রহুল আমিন, আইসিটি কর্মকর্তা এম. ই. সারোয়ার লিমনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা লোকমান আনোয়ারী।




