Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:11 pm
অন্যান্য

দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

মো. আবুসাঈদ গালিব ||

টানা বর্ষণে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টানা বর্ষণেই নয়, সামান্য বৃষ্টিতেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার শিকার এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাহী এলাকা, কৈবর্তপাড়া, তালুকদারবাড়ী চৌরাস্তা, সূত্রধরপাড়া-মাঝিপাড়া, বাজারিপাড়ার কামিল মাদ্রাসা সড়ক, মাস্টারপাড়া, ডালবাড়ি, বাদেশ্বরীয়াবাড়ি, বেলতলী বাসস্ট্যান্ড সড়ক, ঠোঁটাপাড়া, চরভবসুর পূর্বপাড়া, গুজিমারী, কালীতলা বাজারসংলগ্ন মণ্ডলপাড়া, জিলবাংলা সুগার মিলস বাজার এবং কামারপাড়া-মধ্যপাড়া।
জলাবদ্ধতার কারণে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, দেওয়ানগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা ও দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ সপ্তাহের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকছে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা (পিটি) ক্লাস ও খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামেও জলাবদ্ধতার কারণে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
কাঁচারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাশেদা বেগম, এ. কে. এম. মাসুমুল হক, সাব্বির হোসেন ও তান্নী বেগম জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তাঁদের এলাকার তিন শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আগে একটি কালভার্ট দিয়ে পানি সহজেই নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কালভার্টটির মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত কালভার্টটি সচল করা হলে সমস্যার বড় অংশের সমাধান হবে বলে তাঁদের দাবি।
গুজিমারী এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদুর রহমান, জোবেদা বেগম ও রিনা বেগম বলেন, এলাকার অর্ধেকের বেশি অংশে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সড়কের নিচ দিয়ে অস্থায়ী নালা তৈরি করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
এদিকে সূত্রধরপাড়া, ডালবাড়ি, বাদেশ্বরীয়াবাড়ি, ঠোঁটাপাড়া ও কালীতলা মণ্ডলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভার জনসংখ্যা ও বসতি বৃদ্ধি পেলেও সে অনুযায়ী পরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নতুন সড়ক নির্মাণ হলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া খাল, বিল ও পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। পচা পানির দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহ জহিরুল হোসেন বলেন, পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement