জামালপুরের বকশীগঞ্জে আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে জমির মালিক ও তাদের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আবদুল লতিফ সবুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জমি দখলের চেষ্টা ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিকেলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আইরমারী জামে মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জমির মালিক মাহমুদ এনামুল কবির, রাজু সরকার, মজনু সরকার, হাসান সরকার ও আনোয়ার সরকারসহ স্থানীয়রা। এতে আইরমারী গ্রামের তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে মাহমুদ এনামুল কবির অভিযোগ করে বলেন, আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে আইরমারী গ্রামের ৭৫ শতাংশ জমি তারা প্রায় ৪২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তবে একই গ্রামের মৃত আবদুল হালিমের ছেলে লিটন হাসান ও বদরুল হাসান বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে লিটন হাসানের চাচাতো ভাই রুকন মিয়া, যিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত, এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আক্কাস আলীর নেতৃত্বে শতাধিক লোক তাদের দখলীয় জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় আবদুল লতিফ সবুজ লোহার ফলা দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় মাহমুদ এনামুল কবিরসহ আরও কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত আবদুল লতিফ সবুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাহমুদ এনামুল কবির বলেন, “আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে আমরা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছি। এরপরও জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা ও হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, আদালতের ডিক্রি ও বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে জমি নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হোক এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।




