Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:09 pm
জামালপুর

নদী গর্ভে বিলীন স্বপ্ন, নিঃস্ব বকসীগঞ্জের মানুষ

নদী গর্ভে বিলীন স্বপ্ন, নিঃস্ব বকসীগঞ্জের মানুষ

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি||

জামালপুরের বকশীগঞ্জে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।

Advertisement

উপজেলার সাধুরপাড়া ও মেরুরচর ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রাম—ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমিসহ চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ স্থানীয়দের হৃদয়বিদারক কান্না যেন কেউ শুনছেই না।

গত এক মাসে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে। রাতের আঁধারে নদীর গর্জনে ঘুম হারাম হয়ে গেছে ভাঙনকবলিত মানুষের।

কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, “নদীতে পানি কম, কিন্তু ভাঙন মারাত্মক। দুটি ঘর সরিয়েছি, আরেকটি সরাচ্ছি। গরু-বাছুর, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা। ভিটেমাটি সব নদীতে চলে গেল, এখন থাকবো কোথায়? প্রশাসনের কেউ কোনো খোঁজই নিচ্ছে না।”

সাজেদা বেগম জানান, “এবার নিয়ে চারবার ঘর সরালাম। আর কতদিন এভাবে ঘর সরাবো? হাতে টাকা-পয়সাও নেই, আমরা এখন একেবারে নিঃস্ব।”

প্রতিবন্ধী আব্দুল জুব্বার বলেন, “প্রতিবার ভাঙনে জমি-ঘরবাড়ি হারাচ্ছি। মানচিত্রই বদলে যাচ্ছে এই অঞ্চলের। এখনই ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা একেবারে পথে বসে যাবো।”

মেরুরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মনজু জানান, “বহু প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে। শিগগিরই ডাম্পিং শুরু না হলে পাঁচটি গ্রাম পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, “সাধুরপাড়া ও মেরুরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের খবর পেয়েছি। যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.