Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:31 am
জামালপুর

সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ

সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ

Oplus_131072

হৃদয় আহমেদ শাওন: জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে শিশুটির মরদেহ অভিযুক্তের বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই স্কুলে পড়ত সে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকায় শিশুটি প্রায়ই জামিলুলের বাড়িতে খেলতে যেত।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে গেলে তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় শিশুটি ওই বাড়িতে গেলে জামিলুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গোপন করতে বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
এর আগে প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় শিশুটি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, শিশুটি সেখানে যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের পুকুর ও নালায়ও তল্লাশি চালানো হয়। তবে শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরে বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
রোববার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির মামা বলেন, “এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এর বিচার কী হবে? সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হলেও তা কার্যকর হবে কি না—এ নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

Advertisement
Advertisement