নাইম ইসলাম, জাবিপ্রবি প্রতিনিধি।
চারদিকে লোডশেডিং। শহরের ব্যস্ততা থেমে গেছে অন্ধকারের নীরবতায়। ঘরবন্দি গরম আর বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বের হয়েছিলেন খোলা আকাশের নিচে একটু স্বস্তির খোঁজে। কিন্তু সেই সাধারণ রাতই আশেক মাহমুদ কলেজ মাঠে এনে দিল এক ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় দৃশ্য।

সম্প্রতি রাতের বেলায় আশেক মাহমুদ কলেজ মাঠে দেখা যায় এক অভিনব চিত্র। মাঠের একটি অংশে হালকা পানি জমে ছিল। আর সেই পানিতেই সামান্য একটি আলো এবং ঝাঁকি জাল নিয়ে মাছ ধরছিলেন এক ব্যক্তি। চারপাশে চাঁদের মৃদু আলো, মাঝে ছোট্ট আলোর ঝলক, আর সেই আলো ঘিরে মাছ ধরার দৃশ্য সব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল এক অনন্য পরিবেশ।
যেখানে আশেপাশের প্রায় সব জায়গাই শুকনো, এমনকি আশেক মাহমুদ কলেজ মাঠও সাধারণত শুকনোই থাকে, সেখানে হঠাৎ মাছের উপস্থিতি অনেককেই বিস্মিত করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই জমে থাকা পানিতে টাকি, তেলাপিয়া, পুঁটি, খলিসা, কৈ, টেংরাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কৌতূহলী মানুষজন মাঠে ভিড় করতে শুরু করেন।
অনেকে দাঁড়িয়ে আগ্রহভরে মাছ ধরা দেখেছেন, কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকেই মুহূর্তটিকে উপভোগ করেছেন আনন্দের সঙ্গে। লোডশেডিংয়ের বিরক্তিকর সময়টুকু যেন এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য মুহূর্তেই বদলে দেয় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতায়।
একজন দর্শনার্থী বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে বাইরে বের হয়েছিলাম। এসে দেখি কলেজ মাঠে মাছ ধরা হচ্ছে! প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি। এত শুকনো জায়গায় মাছ সত্যিই অবাক করার মতো।”
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে জমে থাকা পানির সঙ্গে আশপাশের জলাশয় থেকে মাছ এসে থাকতে পারে।
লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, রাতের নীরবতা আর চাঁদের স্নিগ্ধ আলো সবকিছুর মাঝেও আশেক মাহমুদ কলেজ মাঠের এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য স্থানীয়দের কাছে হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
একঘেয়ে রাতের মধ্যে এমন ছোট্ট ব্যতিক্রম যেন মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি কখনো কখনো সবচেয়ে সাধারণ জায়গাতেও লুকিয়ে রাখে অসাধারণ বিস্ময়।




