Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:28 am
ময়মনসিংহ বিভাগ

শ্রীবরদীতে হজরত আলী কলেজে নিয়োগ জালিয়াতি, তদন্তের নির্দেশ

শ্রীবরদীতে হজরত আলী কলেজে নিয়োগ জালিয়াতি, তদন্তের নির্দেশ

শেরপুর প্রতিনিধি||

২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া মালেকুননিসা হজরত আলী কলেজের নিয়মিত নন এমপিও শিক্ষককে বাদ দিয়ে ঘুষের বিনিময়ে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেখিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

Advertisement

এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কলেজটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল খালেক, যিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারি পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও কলেজটির দুই জন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ জুন (২০২৫) “১০ বছর কর্মরত প্রভাষককে বাদ দিয়ে ভিন্ন কলেজের শিক্ষক এনে এমপিওভুক্তিকরণ” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে এই তদন্তের নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

তদন্তের চিঠিতে বলা হয়, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলাধীন কাকিলাকুড়া মালেকুননিসা হযরত আলী কলেজে টানা ১০ বছর কর্মরত (নন-এমপিও) প্রভাষককে বাদ দিয়ে তদস্থলে অন্য কলেজে কর্মরত (নন- এমপিও) প্রভাষককে জালিয়াতি করে এমপিওভুক্তিকরণ বিষয়ে একই কলেজের প্রভাষক (পৌরনীতি ও সুশাসন) এসএম আব্দুল আল মামুন একখানা আবেদন মাউশি অধিদপ্তরে দাখিল করেন।

বর্ণিত বিষয়ে ১৫ (পনেরো) কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অধ্যক্ষ, শেরপুর সরকারি কলেজ, শেরপুর এবং তাঁর মনোনীত একই কলেজের দুই জন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে নির্দেশক্রমে মনোনয়ন দেয়া হলো। তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ বিধি মোতাবেক টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন।

শিক্ষাবার্তা’য় প্রকাশিত সংবাদ মারফত জানা গেছে, এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক পদে ২০১৩ সালে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিয়ে ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। ২০২২ সালের ৬ জুলাই সরকার ১০৯টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ এমপিওভুক্ত ঘোষণা করে। ১০৯ টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের একটি হচ্ছে কাকিলাকুড়া মালেকুননিসা হজরত আলী কলেজ।

৬ জুলাই কাকিলাকুড়া মালেকুননিসা হজরত আলী কলেজ এমপিও ঘোষণা হবার পর ১৪ জুলাই কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা এস এম আব্দুল খালেক ও তৎকালীন অধ্যক্ষ মোঃ সাইদুর রহমান এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে যেতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে তাকে কলেজটিতে প্রবেশ করতে না দিয়ে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার আলহাজ্ব হাজেরা আক্তারুজ্জামান কলেজে কর্মরত পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলামকে মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনের পদে বিধিবর্হিভুতভাবে নিয়োগ দেন এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত করান।

ব্যাকডেটে নিয়োগ ঠেকাতে সরকার ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর শিক্ষকদের হালনাগাদ তথ্য বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)তে আবশ্যিকভাবে জমা নেন এবং অনলাইনে তা প্রকাশ করেন। ব্যানবেইসে এমপিও টিচার ভ্যারিফাইড অপশন থেকে প্রতিবছর শিক্ষক-কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়।

২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যানবেইসের সরকারি তথ্যমতে কাকিলাকুড়া মালেকুননিসা হজরত আলী কলেযে কর্মরত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির হাজিরা খাতা, অফলাইন জরিপ এবং ২০২০ সালে সরকার নন এমপিও শিক্ষকদের করোনাকালীন ভাতা বাবাদ অর্থ প্রদান করে সেই অর্থ তিনি পেয়েছিলেন এবং সে ভাতাতেও তার নাম রয়েছে।

অন্যদিকে মো. শফিকুল ইসলাম ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আলহাজ্ব হাজেরা আক্তারুজ্জামান কলেজে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন তার তথ্য ব্যানবেইসে রয়েছে। অর্থ্যাৎ ব্যানবেইসের তথ্যমতে মোঃ শফিকুল ইসলাম বিধিবহির্ভুতভাবে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেখিয়ে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনের পদে ২০২২ সালে যোগদান এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হোন তা সহজেই প্রমাণ মেলে।

২০২২ সালে সরকার ২ হাজার ৭১৬ বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত ঘোষণা করার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তি পর্যায়ের এমপিওভুক্তিতে বেকডেটে নিয়োগ ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের সচিব মো. সোলেমান খান স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্তর এমপিও কোড পাওয়ার পর ব্যক্তি এমপিওর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যক্তি এমপিওভুক্তির সময় আগে নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীকে বাদ দিয়ে পূর্ববর্তী তারিখ ও স্মারক ব্যবহার করে অন্য কোনো শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ অবস্থায় শিক্ষক কর্মচারীর ব্যক্তি এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই বাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃক প্রতিটি ধাপে (উপজেলা, জেলা, অঞ্চল অধিদপ্তর পর্যায়ে) ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ব্যানবেইসে অনলাইনে সংগৃহীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের ডাটাবেইসে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে ব্যক্তি এমপিওভুক্তির জন্য দাখিলকৃত তথ্য তুলনামূলক যাচাই বাছাই করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এস এম এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্থলে মো. শফিকুল ইসলামকে এমপিওভুক্ত করান কাকিলাকুড়া মালেকুননিসা হজরত আলী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন অধ্যক্ষ। মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন অধ্যক্ষের যোগসাজসে বিনা বাধায় মো. শফিকুল ইসলামকে এমপিওভুক্ত করান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ময়মনসিংহ অঞ্চলের তৎকালীন পরিচালক।

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.