একজন অভিভাবক যখন সন্তানের জন্য একটি প্রাইভেট স্কুল বেছে নেন, তখন তাঁর একটাই প্রত্যাশা থাকে, সন্তান ভালো পরিবেশে পড়বে, নিয়মিত ক্লাস করবে এবং মানসম্মত শিক্ষা পাবে। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেক পরিবার সংসারের অন্য খরচ কমিয়ে হলেও মোটা অঙ্কের বেতন দিয়ে সন্তানকে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করান।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে সেই শিক্ষার্থীকেই আবার আলাদা করে প্রাইভেট পড়তে হয়। স্কুলের মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফি, বিভিন্ন কার্যক্রমের খরচ দেওয়ার পরও যদি প্রাইভেট শিক্ষক রাখতে হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, শ্রেণিকক্ষে যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা কি যথেষ্ট?
অবশ্যই সব প্রাইভেট স্কুল এক রকম নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে। কিন্তু এমন অনেক স্কুলও আছে, যেখানে ক্লাসের পড়া শেষ না হওয়া, পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না থাকা কিংবা ভালো ফলাফলের চাপের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হয়।
এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে অভিভাবকদের ওপর। অনেকেই সীমিত আয়ের মানুষ। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা অতিরিক্ত খরচ বহন করেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও সারাদিন স্কুল, এরপর প্রাইভেট, তারপর বাসায় এসে আবার পড়াশোনা। এতে তাদের খেলাধুলা, বিশ্রাম এবং স্বাভাবিক শৈশব ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
শিক্ষা এমন হওয়া উচিত, যেখানে শ্রেণিকক্ষই হবে শেখার মূল জায়গা। একজন শিক্ষক যদি মনোযোগ দিয়ে পাঠদান করেন, শিক্ষার্থী যদি ক্লাসে নিয়মিত থাকে এবং স্কুল যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়, তাহলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আলাদা প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।
প্রাইভেট স্কুল মানেই শুধু সুন্দর ভবন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষ কিংবা আকর্ষণীয় ইউনিফর্ম নয়। একটি ভালো স্কুলের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার পাঠদানের মান। সেই মান যদি শিক্ষার্থীকে আবার প্রাইভেটের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে, তবে সেটি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সুখবর নয়।
শিক্ষা কখনো ব্যবসা হতে পারে না। এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এখন সময় এসেছে শুধু ভালো ফলাফলের নয়, ভালো শিক্ষার দিকে নজর দেওয়ার। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী স্কুলের ক্লাস থেকেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারে, “আমার আর আলাদা করে প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন নেই।”
কারণ একটি বিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন শ্রেণিকক্ষের পাঠই একজন শিক্ষার্থীর শেখার সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে।
– আব্দুর রহিম খান, গণমাধ্যম কর্মী




