Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:12 pm
মুক্তমত

বিশ্বাসঘাতক তুমি যদি জানতে…

বিশ্বাসঘাতক তুমি যদি জানতে…

নয়ন আসাদ ।।

২৩ জুন।
কাকডাকা ভোরে আকাশের দিকে তাকালাম।
মেঘ আছে। কিন্তু বৃষ্টি নেই।
হঠাৎ মনে হলো; ১৭৫৭ সালের এই ভোরেও কি আকাশ এমনই ছিল?
ভাবতে চেষ্টা করি…
পলাশীর আম্রকাননে তখন শিশির পড়ছে। পাখিরা ডাকছে। ভাগীরথীর জলে হয়তো কেবল স্রোত নেমেছে। আমবাগানের কোনো শালিক, কোনো দোয়েল, কোনো কোকিল কি বুঝতে পেরেছিল, আর কয়েক ঘণ্টা পর এই মাটি তাদের থাকবে না?
হয়তো, হয়তো না।
বেলা গড়ায়…
কামানের ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আম্রকানন।
রক্ত ঝড়ছে, কিছুটা ময়দানে, কিছু নবাব সিরাজের হৃদয়ের গভীরে।
তলোয়ার আছে।
সৈনিক আছে।
সেনাপতি আছে।
অস্ত্র আছে।
ঘোড়া আছে।
শুধু যুদ্ধ নেই।
যুদ্ধ নেই!
অথচ নবাবের যুদ্ধ প্রয়োজন।
যুদ্ধ না হলে তিনি জিতবেন না।
তিনি না জিতলে বাংলা হারবে।
একপাশে নবাবের পতাকা বাতাসে উড়ছে।
সেই পতাকার নিচে
মীরজাফর আলী খান!
জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দূর্লভদের চক্রান্তে বন্দী মীরজাফর!
তার কাছে যে তলোয়ার, যা বাংলাকে রক্ষা করার কথা ছিল, সেটি খাপে বন্দী।

Advertisement

ওহ বিশ্বাসঘাতক! তুমি যদি জানতে তোমরা আসলে কি করেছিলে!
তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল নিরক্ষর সেই কৃষকের সঙ্গে, ভাগিরথির কিংবা সবগুলো নদীর জেলেদের সঙ্গে, কিংবা সেই শিশুটির সঙ্গেও, যারা কোনদিন স্বাধীনতার মানে বুঝেনি। রাজায় রাজায় যুদ্ধে তাদের কি লাভ-ক্ষতি তারা তাও বুঝেনি। কিন্তু তাদের মাটির অধিকার ছিল, তাদের নদীর অধিকার ছিল, তাদের বিশ্বাসের অধিকার ছিল। যা তুলে দিয়েছিলে একদল লোভাতুর, নিষ্টুর ফিরিঙ্গিদের হাতে।

বুঝেছিলেন হয়তো মীরমদনরা…
কিন্তু বুকের রক্তে পলাশীর মাটি ভিজিয়েও মীর মদনরা পারলেন না। মোহনলালরাও পারলেন না।
বাহাদুর শাহ, সিনফ্রের কামানও শেষ পর্যন্ত পারল না ইতিহাসের গতিপথ বদলাতে।

হয়তো সিরাজউদ্দৌলা ভুল করেছিলেন।
মাত্র তেইশ-চব্বিশ বছরের এক তরুণ।
রাজনীতি, ষড়যন্ত্র আর ক্ষমতার খেলায় যথেষ্ট অপরিণত।
অনেক সিদ্ধান্তই হয়তো ঠিক ছিল না।
কিন্তু পলাশীর যুদ্ধ কেবল একজন নবাবের যুদ্ধ ছিল না।
সেদিন সিরাজ আর শুধু একজন মানুষ ছিলেন না।
নবাব সিরাজ সেদিন নিজেই হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীনতা। তার হাতে পড়েছিল এমন এক প্রদীপ রক্ষার ভার, যা ছিল মাটি, কৃষক, জেলে, তাঁতি, সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার সেই প্রদীপ যা নিয়ে তারা মোটেও চিন্তা করত না।

সিরাজ হয়তো শেষবারের মতো তাকিয়েছিলেন…
হয়তো ভেবেছিলেন,
কেউ না কেউ আসবে,
তাদের ঘোড়াগুলোর নড়াচড়ায় কখনো হয়তো আশাবাদীও হয়েছিলেন নবাব।
কিন্তু কেউ এলো না।
নবাব শত্রুদের ধ্বংস করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন।
কিন্তু তিনি বোধহয় ভাবতে পারেননি,
দেশ সবসময় শত্রুর হাতে হারে না।

আজ ২৩ জুন।
আকাশে আবার মেঘ।
হয়তো আজও বৃষ্টি হবে।

মীর মদনদের রক্ত নিশ্চয়ই ভিজে উঠবে সেই বৃষ্টিতে…

Advertisement