টিটেনাস শনাক্ত হওয়ার কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সেখান থেকে সংক্রমণ এড়াতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্য রোগীদের।
এরই মধ্যে ওই টিটেনাস আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে আইসিইউতে থাকা অন্যান্য রোগীরা টিটেনাস সংক্রমিত হয়েছে কিনা এটি শনাক্ত করা হয়নি।
সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে দুপুরে এই টিটেনাস শনাক্ত হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউয়ের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহেল বারী জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে আইসিইউতে থাকা কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মহুবর রহমান (৫৫) নামে একজন রোগীর ডায়ালাইসিস এবং সার্জারির পরীক্ষা নিরীক্ষায় আমরা নিশ্চিত হই ওই রোগীর শরীরে টিটেনাস রোগ সংক্রমণ হয়েছে।
যেহেতু টিটেনাস খুব দ্রুত সংক্রমণ রোগ সে কারণে আমরা ৩-৪ দিন আইসিইউ ওয়ার্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি রোগীদের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে।
এরই মধ্যে টিটেনাস আক্রান্ত রোগীকে আইসিইউ থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। মোট ৯ জন রোগীর মধ্যে ৫ জনকে অবস্থা অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৩ জন রোগীর ভেন্টিলেটরে আছেন তাদেরকে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হবে রাতের মধ্যেই। এরপর কেমিক্যাল দিয়ে পরিষ্কার করার পর আবারো আইসিইউ চালু হবে।
টিটেনাস সংক্রমিত রোগীর ছেলে আব্দুল মোনায়েম বলেন, আমার বাবা আইসিউতে চিকিৎসাধীন। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। একটু ভালোর দিকে ছিল। রাতে আইসিইউয়ের চিকিৎসক আমাদের জানান- তার শরীরে টিটেনাস শনাক্ত হয়েছে। সে কারণে আপনাদের অন্য ওয়ার্ডে যেতে হবে। তারপর আমি আমার বাবাকে সেখানে নিয়ে যাই।
সোহাগ আলী নামের এক স্বজন বলেন, আমার স্ত্রী আইসিইউতে ছিল। চিকিৎসক তাকে তিন তলার ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলেন। শুনেছি আইসিইউতে টিটেনাস ধরা পড়েছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, টিটেনাস শনাক্ত হওয়ায় আইসিইউ বিভাগ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করতে হবে। সে কারণে কিছু রোগীকে দুপুরের পর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সরানোর প্রস্তুতি চলছে।




