Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 19:58 pm
অন্যান্য

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অ্যাজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।” তিনি জানান, সরকার নাগরিক সেবাগুলোকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব সেবা সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ এবং জনবলকে আরো দক্ষ করে তোলার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনবলের কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি রেটিং পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফিনান্সিয়াল সেক্টরে সংঘটিত সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোনো অপরাধী যেন অপরাধ করে পার পেয়ে না যায়—সে বিষয়ে বিচার বিভাগের পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অ্যাজেন্সিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (CII) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনসহ সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অ্যাজেন্সি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় বলেন, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আরও কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অ্যাজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় অ্যাজেন্সির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের পর ২৬ আগস্ট ২৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

Advertisement
Advertisement