Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:55 pm
অন্যান্য

৩ জুলাই ১৭৫৭

৩ জুলাই ১৭৫৭

নয়ন আসাদ ।।

৩ জুলাই ১৭৫৭।
মুর্শিদাবাদের সড়ক।
হাতির পিঠে এক তরুণের লাশ!
সেদিন কেউ ভাবতেও পারেনি,
সেই নিথর লাশের সঙ্গে শুরু হচ্ছে এক অন্ধকার।
যা শেষটা অনেক দূর।
দুই শতাব্দী?
হয়তো সময়ের মাপে।
কিন্তু কে জানে ইতিহাসের প্রভাব চলে যাবে আরো কত দূরান্তে!
আজ হাতির পিঠে শুয়ে আছেন সিরাজউদ্দৌলা।
পরাজিত নবাব।
সিরাজের লাশকে অপমান করতে আসা কিছু মানুষ দুপাশে!
কিছু উৎসুক মানুষ।
কি দেখছে?
একটি পতনের গল্প?
খালি চোখে একটি স্বাধীন নবাবির পতন!
কিন্তু লাশ বহন করা হাতিটির প্রতিটি পদক্ষেপের শব্দ থেকে ভেসে আসা যে আর্তনাদ কেউ শুনেনি তা হলেো,
আজ থেকে এই মাটির ধান,
এই নদীর পানি,
এই তাঁতির ঘাম,
এই কৃষকের ফসল আর কিছুই তোমাদের নয়।
নবাব ঘুমাচ্ছিলেন।
যে ঘুম থেকে কেউ জাগে না।
তার আগে বেশ ধকল গিয়েছে তার উপর।
হয়তো ক্ষুধার্ত ছিলেন।
হয়তো ক্লান্ত।
হয়তো কয়েক দিন ধরেই ঠিকমতো চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে পারেননি।
কিন্তু আজ তাকে জাগানোর সাধ্য কারও নেই।
মীরনের তলোয়ার তার প্রাণ হরণ করেছে সত্য কিন্তু খোদার কি ইচ্ছা!
সিরাজ আর প্রাণে সীমাবদ্ধ থাকলেন না।
হয়ে উঠলেন ইতিহাসের এক দীর্ঘশ্বাস!
একটু পরেই,
খোশবাগের মাটি তাকে আপন করে নিবে।
একজন নবাবের দাফন সম্পন্ন হবে।
কিন্তু!
শুধু একজন মানুষের দাফন হবে ব্যাপারটা তা নয়।
যে এক মুঠো মাটি পড়বে সিরাজের কবরের ওপর।
সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যাবে এক স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন।
খোশবাগের সেই কবর থেকেই শুরু হবে ইতিহাসের আরেকটি দীর্ঘ যাত্রা?
শুরু হবে অধিকার থেকে বঞ্চনার ইতিহাস।
লুণ্ঠনের ইতিহাস।
পরাধীনতার ইতিহাস।
৩ জুলাই ১৭৫৭।
একটি হাতি এগিয়ে চলছে এক তরুণ নবাবের নিথর দেহ নিয়ে…
Advertisement
Advertisement