Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:51 pm
অন্যান্য

রাশিয়ায় ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ মাদারগঞ্জের দুই যুবক, ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার আশঙ্কা

রাশিয়ায় ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ মাদারগঞ্জের দুই যুবক, ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার আশঙ্কা

আব্দুর রহিম খান।। মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় গিয়ে ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার সূত্র ধরে ড্রোন হামলায় তাদের নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা কূটনৈতিক সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ দুই যুবক হলেন উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ (২৭) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে মফিজ চাঁদপুরের এক দালালের মাধ্যমে এবং আরিফ তার চাচাতো ভাই আমিনুর ইসলাম সোজার সহযোগিতায় রাশিয়ায় যান। মফিজকে রাজমিস্ত্রীর কাজ এবং আরিফকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা পরিবারকে জানান, প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে দালাল চক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। সর্বশেষ গত ২৯ মে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন বলে দাবি করেন তারা।
মফিজের মা মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের লাশ দেশে ফেরত চাই। যারা তাকে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের বিচার চাই।”
মফিজের বোন কণিকা বলেন, “রাজমিস্ত্রীর কাজের কথা বলে আমার ভাইকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফোনে কাঁদতে কাঁদতে সে বলেছিল, ‘আমাদের বাঁচাও।’ এখন শুনছি, সে মারা গেছে। আমরা তাকে দেশে ফেরত চাই।”
আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, “ঋণ করে ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমিনুর ইসলাম সোজার মাধ্যমে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। সে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি, সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফেরত চাই এবং দোষীদের বিচার চাই।”
আরিফের চাচাতো ভাই আনন্দ বলেন, “পরিবারটি খুবই অসচ্ছল। ঋণ করে আরিফকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দালালরা প্রতারণা করেছে। কাজের কথা বলে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুর ইসলাম সোজা বলেন, “আমি তাকে নিয়ে যাইনি। তাকে আরএস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আমি শুধু সহযোগিতা করেছি।”
তবে মফিজ ও আরিফের মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা কূটনৈতিক সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। স্বজনরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে দুই পরিবারে। আর যদি সত্যিই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে অন্তত শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পেতে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন স্বজনরা।

Advertisement
Advertisement