সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন-স্টাফ রিপোর্টার :
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের হিসাব সহকারী হাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও তাদের স্বজনরা চাকরি পেতে টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশের ১৯টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ১৫ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নিয়োগের আগে ও পরে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে।
দূরমুঠ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য রুবেল মিয়া দাবি করেন, পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, “পরীক্ষার দিন হাসেম স্যারকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরীক্ষায় খুব বেশি লিখিনি, দুই-তিনটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। টাকা দিয়েছি বলেই চাকরি হয়েছে বলে মনে করি।”
একই ইউনিয়নের আরেক নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য জয়ের চাচা, যিনি নিজেও গ্রাম পুলিশ সদস্য, বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের দুইজনেরই ২০ হাজার টাকা করে লেগেছে। ভাতিজার চাকরির জন্য আমি নিজেই হাসেম স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”
শ্যামপুর ইউনিয়নের নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য নূর নবীর বাবা শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার জামাল অভিযোগ করেন, চাকরি হওয়ার পর ‘মিষ্টি খাওয়ার’ কথা বলে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে টাকা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কুলিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য নিরঞ্জন জানান, তার ছেলের চাকরির জন্য প্রথমে ৬০ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, অফিসের এক পিয়নের মাধ্যমে একটি দোকানে টাকা জমা রাখা হয়। পরে অন্য একজন বেশি টাকা দেওয়ায় তার ছেলের চাকরি না হয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত কার্তিক বলেন, “চাকরির জন্য কিছু টাকা খরচ হয়েছে। গরু বিক্রির ৮০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লেগেছে।” তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে জামালপুরে গিয়ে হাসেম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
কার্তিকের বাবাও দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরই তার ছেলের চাকরি হয়েছে।
একজন প্যানেল চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন আমার ইউনিয়ন পরিষদে যাদের চাকরি হয়েছে তাদের টাকা লেগেছে এরকম ঘটনা শুনি নাই। তবে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সর্বনিম্ন দেড় লক্ষ টাকা করে নিয়েছে উপজেলার হিসাব সহকারী হাশেম আলী।
তবে অভিযোগের বিষয়ে হিসাব সহকারী হাসেম আলী
বলেন, টাকা কি শুধু আমি একাই খেয়েছি। আমি-আপনি সবাই মিলেই খেয়েছি। যেহেতু আমি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ফাইল দেখাশোনা করি তাই আমার উপর অভিযোগ আসবে এটাই স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।




