সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন-স্টাফ রিপোর্টার:
রেলের অনলাইন টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে জামালপুরে পৃথক দুটি অভিযানে দুই পেশাদার টিকিট কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের মোট ২২টি আসনের অনলাইন টিকিট এবং টিকিট বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার (৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইসলামপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে পেশাদার টিকিট কালোবাজারি মো. মেহেদি হাসান ওরফে সম্পদ (২১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তার কাছ থেকে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটের ১২টি আসনের ৫টি অনলাইন টিকিট এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, পরিচিত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কাউন্টার এবং অনলাইনে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করে নিজের কাছে মজুত রাখতেন। পরে চাহিদা অনুযায়ী যাত্রীদের কাছে দ্বিগুণ দামে সেসব টিকিট বিক্রি করতেন।
একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় আরও একটি অভিযান চালায় রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় মো. মেজাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজাহিদ (২৩) নামের আরেক পেশাদার টিকিট কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার কাছ থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের জামালপুর-ঢাকা রুটের ১০টি আসনের ৫টি অনলাইন টিকিট এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও পরিচিত ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবহার করে আগাম টিকিট সংগ্রহ এবং পরে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশের ওসি রবিউল ইসলাম জানান, কর্মস্থলমুখী মানুষের ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন ও কাউন্টারভিত্তিক টিকিট সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির সুযোগ নিয়ে তারা দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে আসছিল।




