মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা,বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় বীরগাঁও এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি মরহুম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল কর্তৃক ওয়াকফকৃত কবরস্থান, জামে মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ ও সোবহানীয়া হাফিজিয়া এতিমখানার নতুন মোতাওয়াল্লি হিসেবে মোঃ আল-মামুন সিদ্দিকী নিয়োগ পেয়েছেন।
জানা যায়, বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল শিক্ষা, ধর্ম ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ একজন ব্যক্তি ছিলেন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় তিনি দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থী, মুসাফির ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সুবিধার্থে মোট ৫ দশমিক ০৮ একর আবাদি ও অনাবাদি জমি জামে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ এবং সোবহানীয়া হাফিজিয়া এতিমখানার নামে ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে জমিগুলো বিআরএস জরিপে ওয়াকফ এস্টেট হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়।
ওয়াকফ দলিলের শর্ত অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকিফের নাতি মোঃ সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর পর ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ সময় একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন ধরনের চক্রান্তে লিপ্ত হয়। এরই মধ্যে সাবেক মোতাওয়াল্লি সাইফ উদ্দিন আহম্মেদের একমাত্র ছেলে আল-হাসিব বিন সাইফ ওয়াকফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১ দশমিক ০১ একর জমি অন্যত্র বিক্রি করেন, যার দলিল নম্বর ৫৩৯২।
এ অবস্থায় ওয়াকিফের অপর নাতি মোঃ আল-মামুন সিদ্দিকী ওয়াকফ সম্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন। তিনি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সোবহানীয়া হাফিজিয়া এতিমখানার কার্যক্রম পুনরায় চালু করেন। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে বেদখলে থাকা ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার করে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ ও এতিমখানার উন্নয়ন ও পরিচালনা কাজে ব্যয় করা শুরু করেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং মরহুম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন মন্ডলের বংশধরদের পরামর্শক্রমে মোঃ আল-মামুন সিদ্দিকী বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ৪ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা-১০০০-এ মোতাওয়াল্লি হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন।
আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ যাচাই-বাছাই, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে তিন বছরের জন্য ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।
সূত্র জানায়, নিয়োগপত্রে ওয়াকফ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বে বিক্রিত ৫৩৯২ নম্বর সাব-কবলা দলিলের বৈধতা যাচাই এবং ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত মোতাওয়াল্লি মোঃ আল-মামুন সিদ্দিকী বলেন, “আমার দাদা মরহুম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সমাজের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই সম্পত্তি ওয়াকফ করেছিলেন। তাঁর সেই মহৎ উদ্যোগকে সংরক্ষণ করা এবং ওয়াকফ সম্পত্তির আয় ধর্মীয় ও মানবিক কাজে ব্যয় করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন মোতাওয়াল্লির নেতৃত্বে ওয়াকফ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এবং মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ ও এতিমখানার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা ও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।




