Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:00 pm
অন্যান্য

জামালপুরে কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে তালাবদ্ধ পানি শোধনাগার

জামালপুরে কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে তালাবদ্ধ পানি শোধনাগার

হৃদয় আহম্মেদ শাওন,জামালপুর প্রতিনিধি:

কাগজে-কলমে কোটি টাকার উন্নয়ন, বাস্তবে তালাবদ্ধ ভবন আর মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। জামালপুর পৌরবাসীর জন্য নির্মিত প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার পানি শোধনাগার ও পানির ট্যাংক পাঁচ বছর ধরে অচল পড়ে থাকলেও এর সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ।

Advertisement

শহরের বগাবাইদ বোর্ডঘর এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল পানির ট্যাংকটি দূর থেকে দেখলে মনে হয় আধুনিক কোনো সেবামূলক স্থাপনা। কিন্তু কাছে গেলেই ধরা পড়ে ভিন্ন চিত্র। চারদিকে নীরবতা, অবহেলা আর অযত্নের ছাপ। যে প্রকল্প থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি এখন যেন উন্নয়নের নামে অপচয়ের এক প্রতীক।

শুষ্ক মৌসুমে পৌরবাসীর নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল প্রকল্পটি।প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পানি শোধনাগার এবং তিন কোটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৬৮০ কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক। ২০২১ সালে প্রকল্পটি জামালপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি এটি।

একদিকে যেমন বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ভবন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির কারণেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি টাকার প্রকল্প, কিন্তু আজ পর্যন্ত ১ টাকারও সেবা মেলেনি। এ প্রকল্পের শুরু থেকেই ছিল অনিয়ম ও দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। নিম্নমানের কাজ, তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেই এখনো চালু করা যাচ্ছে না পানি সরবরাহ ব্যবস্থা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
এত বড় প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু আমরা পৌরবাসী এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানিও পেলাম না। তাহলে এই টাকা গেল কোথায়, তাহলে নিশ্চয়ই যারা তৈরি করছে তারা দূর্নীতি করছে এর একটা বিচার হওয়া দরকার।

আরেক বাসিন্দা মেহেদী বলেন, পানির ট্যাংকির এই দুর্নীতির সাথে আমি মনে করি জনস্বাস্থ্য,পৌরসভা ও ঠিকাদাররা জড়িত। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট প্রত্যক্ষভাবে এটির সাথে জড়িত রয়েছে। আমি মনে করি, এখানে লাখ লাখ টাকা, কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। আমার ও শহরবাসীর দাবি, এটি ভালোভাবে তদন্ত করা, পর্যবেক্ষন করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব বলেন, একটার পর একটা জনপ্রতিনিধি গেল, কিন্তু প্রকল্প চালু হলো না। এর মধ্যে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আমরা জনগণ শুধু ট্যাংক দেখি, পানি আর দেখলাম না। এগুলো কাদের টাকায় করছে, আমাদের টাকায় তাহলে এখনো কেন একা চালু করা হয় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালি জমে আছে। যন্ত্রপাতির বেশ কিছু অংশে মরিচা পড়েছে। পলি দিয়ে ডেকে রাখা হয়েছে মূল মেশিনটিও।আশপাশের পরিবেশও অরক্ষিত।

পৌরবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার, পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি পৌর প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা জানিয়েছেন, পাইপলাইনের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় পুরো প্রকল্প সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

জামালপুর জনস্বা প্রকৌশল অধিদপ্তর, নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত)মোহাম্মদ জামাল হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ওইটা যখন আমরা হ্যান্ডওভার করেছি। তখন ওইটা ভালো ছিলো এবং ভালো ছিলো বলেই ওনারা এটা রিসিভ করেছে। হ্যান্ড ওভারের পরেও অনেকদিন চালু ছিলো। এরপরে কি হয়েছে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরাতো হ্যান্ডওভার করেই দিয়েছি। এরপরেও যদি কোনো সমস্যা আছে, সেটি আমাদের লিখিতভাবে জানালে আমরা কিউর করে দিতে পারি।

Advertisement