মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ট্রাঙ্কবন্দী অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী পৌরসভার তাঁতিহাটি পশ্চিম নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী এলাকায় রাস্তার ওপর একটি বড় ট্রাঙ্কের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় তোশকে মোড়ানো, হাত-পা বাঁধা এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার বাসিন্দা ডলি আক্তার (৩৫), পিতা আলাল মিয়া।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১, তারিখ: ০২/০৪/২০২৬, ধারা: ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড)। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই, জামালপুর ইউনিটকে দেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল আইজিপি মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্তের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ৩ এপ্রিল লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ শনাক্ত ও জব্দ করা হয় এবং চালক আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামী নিয়ামুর নাহিদ (২৬) এবং তার স্ত্রী রিক্তা মনি (২৬)-কে ৪ এপ্রিল ভোরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা এলাকায় চেকপোস্টে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী নাহিদ ৩০ মার্চ রাতে ডলি আক্তারকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করলে নাহিদ গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে বিষয়টি স্ত্রী রিক্তা মনিকে জানালে তারা দুজন মিলে লাশ গোপনের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি বড় ট্রাঙ্ক কিনে লাশটি হাত-পা বেঁধে তোশক দিয়ে পেঁচিয়ে ভেতরে ভরে রাখা হয়। পরদিন পিকআপ ভাড়া করে শেরপুরের শ্রীবরদীতে এনে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে যায়।
গ্রেফতারের পর আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামীরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিবিআই, জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাঙ্কবন্দী লাশ উদ্ধার: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার




