স্টাফ রিপোর্টার:
হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের মতো সংবেদনশীল সেবাতেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সদর থানার এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর কনস্টেবল ওয়াজেদ (বিপি নং: ৯৪১৪১৮২৮১১)-এর দিকে। একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্যে উঠে এসেছে—মোবাইল উদ্ধারের নামে নির্ধারিত কোনো সরকারি ফি ছাড়াই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায়ের অভিযোগ, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই হারানো মোবাইল উদ্ধারের কাজকে কেন্দ্র করে একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। থানার ভেতরে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে মোবাইলের মালিকদের ডেকে নিয়ে দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ নির্ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়ার পর, মোবাইল উদ্ধার হলে বাকি অর্থ আদায় করা হয়—এমন ধারাবাহিকতার কথাও জানিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।
লক্ষীরচর ইউনিয়নের ফারুকুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছ থেকে মোট সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বলা হয়, এর মধ্যে ২,১০০ টাকা সরকারি খরচ, আর মধুপুর থেকে মোবাইল আনতে অন্য থানায় খরচ হয়েছে।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা এলাকার সৌমিক হাসান হাসিব। তিনি বলেন, “প্রথমে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে দরকষাকষি করে দুই ধাপে ৩,৫০০ টাকা দেই। বলা হয়, মোবাইল রাঙ্গামাটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
মোহন নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, তার মোবাইল স্থানীয়ভাবে উদ্ধার হলেও কনস্টেবল ওয়াজেদ তার কাছে ‘কোড কেনা’সহ বিভিন্ন অজুহাতে ১,৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে ৫০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকেও কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
রিফাত নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, একটি পুরোনো মোবাইল কেনার পর সেটি চুরি করা বলে জানানো হয়। পরে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কনস্টেবল ওয়াজেদ। তার দাবি, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এর জন্য কোনো অর্থ নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সচেতন মহলের অভিমত, পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। অন্যথায় জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা




