স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের ইসলামপুরে মঞ্জুয়ারা বেগম (২৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর চর এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঞ্জুয়ারা ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সুজন মিয়ার স্ত্রী। প্রায় দেড় যুগ আগে পাশের শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নম্বর চর এলাকার আহমত মোল্লাহর মেয়ে মঞ্জুয়ারার সঙ্গে সুজন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে মঞ্জুয়ারার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ডিগ্রিরচর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুরুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে প্রথমে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে লাশ দিতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
পরে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মঞ্জুয়ারার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে লাশ নদীর পানিতে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মঞ্জুয়ারার বোন আঞ্জুরা অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর দেবর লোকমান ও লুৎফরসহ কয়েকজন মঞ্জুয়ারাকে হত্যা করেন। পরে লাশ বসতবাড়িসংলগ্ন নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নদীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে লাশ রশিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, মঞ্জুয়ারা নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।




