জামালপুর প্রতিনিধি:
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার জেরে জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর এ. কে. এম. জাওয়াদুল হক।
বহিষ্কৃত ছাত্র আমিনুল এহসান-তিনি সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জামালপুর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে জামালপুর জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বহিষ্কার আদেশ সূত্রে জানা গেছে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে ৫০-৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীর বক্তব্য গ্রহণ, দালিলিক প্রমাণ যাচাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে উপস্থাপন করা হলে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় তাকে অভিযুক্ত সাব্যস্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণ ও শাস্তি বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীকে ৪র্থ বর্ষ, ৮ম সেমিস্টার থেকে চার সেমিস্টার বা দুই বছরের জন্য (৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত) ছাত্রত্ব স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আমিনুল এহসান অভিযোগ করে বলেন, “চার মাস আগে আমি সাবেক রেজিস্ট্রারের দুর্নীতির বিষয়টি সামনে এনেছিলাম। হঠাৎ আজ সকালে আমাকে ফোন করে ডেকে এনে বহিষ্কারের চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগামীকাল আমার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। পরিকল্পিতভাবে আজ আমার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। যদি আমি ভুল করে থাকি, তাহলে চার মাস আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো, আজ কেন?”
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর এ. কে. এম. জাওয়াদুল হক ঢাকা পোস্টেকে বলেন, “আপনাদের বলার কিছু নাই নোটিশে সবকিছু বলা আছে। সে একজনের বিরুদ্ধে ৫০ ৬০ কোটি টাকার দূর্নীতির অভিযোগ করে পরবর্তীতে আমরা এর তদন্ত করলে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয় এজন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক ছাত্রত্ব স্থগিত করা হয়েছে।”




